গ্লাসগো, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জনের পর ভারতের জুডোকা অস্মিতা দে তাঁর ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক উৎসর্গ করলেন সেই সব মানুষকে, যাঁরা তাঁর সংগ্রামের পথে পাশে ছিলেন। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের চাকরি পাওয়ায় তাঁর পরিবারের আর্থিক স্থিতি মজবুত হয়েছে এবং সেই সমর্থনই তাঁকে এই সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
স্বর্ণপদক জয়ের পর আইএএনএস-কে অস্মিতা বলেন, সোনা জিতে আমি ভীষণ খুশি। এই পদক তাঁদের সকলের জন্য, যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন। এছাড়াও আমি যোগীজিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তিনি আমাকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের চাকরি দিয়েছেন।
ত্রিপুরার মেয়ে হলেও বর্তমানে বারাণসীতে বসবাসকারী অস্মিতা বৃহস্পতিবার কমনওয়েলথ গেমসের মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগের ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সোনার পদক জয় করেন।
তিনি বলেন, আজ আমার মনে একটাই বিশ্বাস ছিল—আজ ৪৮ কেজি বিভাগে আমিই সেরা এবং দেশের জন্য, নিজের জন্য, কোচ, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবার জন্য আমাকে সোনা জিততেই হবে। আমি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কর্মী। যোগী আদিত্যনাথ আমাকে চাকরি দিয়েছেন, যার ফলে আমার পরিবার আর্থিকভাবে সমর্থন পেয়েছে। সেই সমর্থনই আমাকে এখানে এসে দেশের জন্য সোনা জিততে সাহায্য করেছে।
রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে অস্মিতা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ ধৈর্য ও কৌশলের পরিচয় দেন। শক্তিশালী রক্ষণ এবং পরিকল্পিত আক্রমণের মাধ্যমে তিনি অভিজ্ঞ কানাডিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে নিজের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেন।
ফাইনালের আগে ওজন নিয়ন্ত্রণের কঠিন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ভারতীয় জুডোকা। তিনি জানান, র্যান্ডম ওয়েট-ইনের কারণে তাঁকে সকালে প্রায় না খেয়েই থাকতে হয়েছিল।
অস্মিতার কথায়, র্যান্ডম ওয়েট-ইনে ৫০ কেজির নিচে থাকতে হতো। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ওজন ছিল ৫০ কেজি ৩০০ গ্রাম। তাই খুব বেশি কিছু খেতে পারিনি। আমার নাম র্যান্ডম ওয়েট-ইনের জন্য ডাকবে বলে আগেই ধারণা ছিল। ওজন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর খাওয়া-দাওয়া করি এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরে ফাইনাল খেলতে নামি।
অস্মিতার এই স্বর্ণপদকের ফলে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। পুরো প্রতিযোগিতাজুড়েই তিনি দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে একের পর এক বাধা টপকে ফাইনালে পৌঁছান এবং শেষ লড়াইয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে ভারতের জন্য স্বর্ণ নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে অস্মিতা দে ভারতের কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণজয়ীদের তালিকায় নিজের নাম লেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় জুডোর ক্রমোন্নতিরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তাঁর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের জুডো খেলোয়াড়দের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



















