জয়পুর, ১৫ জুন (আইএএনএস): ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্র-সমর্থিত ‘অপারেশন ক্লিন’-এর পরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্থানের ১০২টি সীমান্তবর্তী গ্রাম ও ধানি (ছোট বসতি) এখন বিশেষ নজরদারির আওতায় এসেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনহীন ও সন্দেহজনক স্থায়ী নির্মাণগুলির সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। বৈধ অনুমতি ছাড়া বা জাল নথির ভিত্তিতে নির্মিত ভবন চিহ্নিত হলে সেগুলি ভেঙে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার আর্থিক লেনদেনের উপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ব্যাঙ্কগুলিকে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নিয়ন্ত্রক বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং বেআইনি অর্থায়ন চক্র রুখতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তৎপরতা বাড়িয়েছে।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে নজরদারি এলাকার পরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিকানের জেলার জেলাশাসক অনুপমা জোরওয়াল জানান, সম্প্রসারিত অভিযানের আওতায় ১০২টি সীমান্তবর্তী গ্রাম ও ধানিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং যৌথ দল ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষেত্রসমীক্ষা শুরু করেছে।
প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে এমন সব স্থায়ী নির্মাণ খতিয়ে দেখছে, যেগুলি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। এর লক্ষ্য অবৈধ বসতি শনাক্ত করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বা অন্যান্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কার্যকলাপের সূত্র খুঁজে বের করা।
জোরওয়াল জানান, সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট শীঘ্রই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জমা দেওয়া হবে। সম্প্রতি বিকানেরে অনুষ্ঠিত সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক এবং ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-সংক্রান্ত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথমে ১৫ কিলোমিটার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই অভিযান এখন অনেক বৃহত্তর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং জঙ্গি অর্থায়নের মতো হুমকি মোকাবিলায় এই সম্প্রসারিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি বিকানের সফরে সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ‘অপারেশন ক্লিন’ চালুর নির্দেশ দেন।
বর্তমানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি), জেলা প্রশাসন এবং রাজস্ব দফতরের যৌথ দল মাঠে নেমেছে। পাটোয়ারি ও তহসিলদারদের নেতৃত্বে জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হচ্ছে এবং জাল দলিল, বেআইনি দখল ও সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্ত চলছে।
রাজস্থান পুলিশের মহাপরিচালক রাজীব শর্মা আইএএনএস-কে বলেন, “ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো রাজস্থানেও এর ইতিবাচক ফল মিলবে। সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ যাতে নিজেদের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত মনে করেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তবর্তী গ্রামে বেআইনি নির্মাণ, মাদক পাচার এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয়দের সচেতন করা আমাদের অগ্রাধিকার। এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে মানুষের জীবনমান উন্নত করেছে, রাজস্থানও সেই সাফল্যের অংশ হবে।”
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, চিহ্নিত ১০২টি গ্রাম ও ধানির প্রতিটি স্থায়ী নির্মাণ বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। বৈধ অনুমোদন ছাড়া বা জাল নথির ভিত্তিতে নির্মিত ভবনগুলির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে।
এছাড়া জাল জমির নথি, ভুয়ো আধার কার্ড এবং অন্যান্য নকল পরিচয়পত্র সংক্রান্ত মামলাগুলিও তদন্ত করছে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কার্যরত সন্দেহজনক সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন ও মালিকানার ধরনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে শুরু হওয়া ‘অপারেশন ক্লিন’-এর মূল লক্ষ্য হল অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত সীমান্তপার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া।
_______



















