আগরতলা, ১৫ জুনঃ সরকারি ও কর্পোরেট মহলে সুপরিচিত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনসিস্কাই সফটেক প্রাইভেট লিমিটেডের নাম ও ফোন নম্বর ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। প্রিন্ট মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার বেলা ১১টায় আগরতলা প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স হলে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ইনসিস্কাই সফটেক। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার তনুশ্রী রায় এবং সংস্থার সফটওয়্যার ডেভেলপার ও কর্মী নন্দয় দাস, অন্তর আহমেদ ও সৌরাদিপ দেবনাথ।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রীতম দাস নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্তের একটি মোবাইল নম্বর এবং একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। তাঁরা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সংস্থার নাম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেন।
তাঁরা আরও জানান, এই প্রতারণামূলক ঘটনার ফলে সংস্থার নিয়মিত পরিষেবা বা কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আগের মতোই তারা তাদের পরিষেবা প্রদান করে যাবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইনসিস্কাই সফটেক গত ১৬ বছর ধরে ভারত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত প্রযুক্তি পরিষেবা প্রদান করে আসছে। সংস্থার দাবি, ২০২৩ সালে তারা গুগল অ্যাপস্কেল একাডেমি কর্তৃক ‘ভারতের সেরা অ্যাপ পারফরম্যান্স পুরস্কার’ অর্জন করে। এছাড়া ২০২৪ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতের শীর্ষ স্টার্টআপগুলির মধ্যে স্থান লাভের পাশাপাশি ত্রিপুরা স্টার্টআপ পলিসি ২০২৫-এর আওতায় আর্থিক সহায়তাও পেয়েছে।
সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ‘টক ইংলিশ’, ‘উরা রাইড’ এবং ‘ত্রিপুরা নিউজ অফিসিয়াল’-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আগামী দিনেও ত্রিপুরায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবে।



















