আগরতলা, ১৫ জুনঃ ধান, আম, মশলা-সহ একাধিক কৃষিপণ্যের উৎপাদনে ভারত আজ বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।আজ ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ এবং ন্যাচারাল ফার্মিং বিষয়ক এক কর্মশালায় এমনটাই বললেন কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
এদিন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টানা ১২ বছর দেশের নেতৃত্ব দিয়ে এক নতুন নজির স্থাপন করেছেন। তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা প্রয়াস’। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের একাদশ স্থানে ছিল। বর্তমানে তা চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। একসময় ভারতকে খাদ্যশস্যের জন্য বিদেশের উপর নির্ভর করতে হতো, অথচ আজ ধান উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। দুধ, মশলা, এলাচ, লঙ্কা, হলুদ, আম, আদা, মিলেট ও তুলাসহ একাধিক কৃষিপণ্যের উৎপাদনেও ভারত শীর্ষস্থান অধিকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষি খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রতন লাল নাথ বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারের ফলেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরাই দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই ভারত কৃষিক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের আত্মনির্ভরতার আদর্শের কথাও স্মরণ করেন।
ত্রিপুরার আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির বিষয়েও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৩ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১৯ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি পরিবারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার নীতিতেই সরকার অটল রয়েছে।
রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে রতন লাল নাথ বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পেঁয়াজ, তৈলবীজ ও আমের চাষ সীমিত পরিসরে হলেও বর্তমানে এসব ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ তৈরি হয়েছে এবং কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।



















