মুম্বই, ১ মে (আইএএনএস): নাবালিকা এক কন্যার শ্লীলতাহানির অভিযোগে এসিপি পদমর্যাদার এক পুলিশ আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে। ওয়ারলি থানায় পকসো আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই আধিকারিক ওয়ারলির একটি পাবলিক গার্ডেনে ৯ বছরের এক নাবালিকার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে স্থানীয় আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, খেলতে গিয়ে ওই শিশু পার্কে একা থাকাকালীন অভিযুক্ত তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং তাকে জোর করে নিজের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করতে বাধ্য করেন। আতঙ্কিত অবস্থায় বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে পুরো ঘটনাটি জানায়।
ভুক্তভোগীর মা, যিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন, সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তের সময় আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। এক নাবালক ছেলে দাবি করেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে একই ব্যক্তি তার সঙ্গেও অনুরূপ অশোভন আচরণ করেছিলেন। পুলিশ এই অভিযোগটিও খতিয়ে দেখছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ ও ৭৯ ধারার পাশাপাশি পকসো আইনের ১২ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তবে তদন্তে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরার অনুপস্থিতি, ফলে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ফরেনসিক তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।
অভিযুক্ত ওই আধিকারিক মূলত নাগপুরের বাসিন্দা এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মুম্বইয়ে ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ-এর দফতরে কর্মরত ছিলেন। তিনি পুলিশ কমিউনিকেশন ও আইটি বিভাগে যুক্ত ছিলেন এবং ওয়ারলি পুলিশ ক্যাম্পে একাই থাকতেন।
এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি, শৃঙ্খলা এবং তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুম্বই পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, সবদিক খতিয়ে দেখে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



















