বিলোনিয়া, ১ মে: তীব্র পানীয় জলের সংকটের জেরে দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মাইছড়া বীণাপাণি ক্লাব এলাকায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন এলাকাবাসী। প্রায় ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত পানীয় জল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে গাড়িতে করে জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শুরুতে কিছুদিন জল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেটিও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।
ফলে দৈনন্দিন জীবনে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। জল সংগ্রহ করতে বহু দূর যেতে হচ্ছে, যা বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
এদিন কলসি ও বালতি হাতে নিয়ে বিলোনিয়া-শান্তিরবাজার সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সৃষ্টি হয় যানজট। অবরোধকারীদের অভিযোগ, পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এতদিন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে কোনো প্রতিনিধি এলাকাতেও আসেননি।
অবরোধ শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত গাড়িতে করে পানীয় জল সরবরাহ করা হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই অবরোধ তুলে নেন এলাকাবাসী এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সময়মতো ও পর্যাপ্ত জল সরবরাহ না হলে তারা আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে এবং এলাকায় একটি পৃথক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে।
অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস জানান, জল সরবরাহে দপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো এলাকায় মাত্র দুটি গাড়ির মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা একেবারেই অপ্রতুল। তিনি আরও বেশি গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং অস্থায়ী ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার দাবি জানান।
এখন নজর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে—কবে নাগাদ এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়, সেটাই দেখার।



















