রাজ্য বিজেপি-র তিন শীর্ষনেতা যাচ্ছেন দিল্লিতে

কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি . স.) : বিজেপি রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর প্রথমবার দিল্লি সফরে যাচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার। দলীয় সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধেবেলায় দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। প্রায় দু’দিনের সফরে সুকান্ত মজুমদার দেখা করতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে। বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও।

গত সপ্তাহেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আর তারপর সোমবারই প্রথমবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। জরুরি তলব পেয়ে তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছেন বঙ্গ বিজেপি আরও দুই শীর্ষ নেতা – দিলীপ ঘোষ ও অমিতাভ চক্রবর্তী। তাঁরাও সোমবার সন্ধেবেলা সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে যাবেন। পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে সেখানে। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার পাশাপাশি সংগঠন সাজানো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সদ্যই পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সংগঠনে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। রাজ্য সভাপতির পদে বদল ঘটানো হয়েছে। দিলীপ ঘোষের বদলে এসেছেন সুকান্ত মজুমদার। এবার নতুন করে রাজ্য কমিটি তৈরি হবে। সূত্রের খবর, সেখানে নতুনদের প্রাধান্য দিতে আগ্রহী বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। তুলনামূলকভাবে যাঁরা নিষ্ক্রিয়, তাঁদের ছাঁটাইয়ের কথা ভাবা হচ্ছে। রাজ্য কমিটিতে ঠাঁই হতে পারে তুলনায় তরুণ, সক্রিয় নেতা, কর্মীদের। সেসব নিয়ে আলোচনার জন্যই সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির পর দিলীপ ঘোষকেও নতুন দায়িত্ব দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁকে বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে আনা হয়েছে। অর্থাৎ এবার থেকে জেপি নাড্ডার অধীনে সংগঠনের কাজ করবেন দিলীপ ঘোষ।। সেই নতুন দায়িত্ব তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যও তলব করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে পশ্চিমবঙ্গে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর দলীয় সংগঠনের খোলনলচে বদলে নতুন রণকৌশলের সুর বেঁধে দিতে পারেন নাড্ডা-শাহ। তার জন্যই সুকান্ত-দিলীপ-অমিতাভকে তলব।

চলতি সপ্তাহেই বাংলার বিজেপি রাজ্য সভাপতির পদে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। দিলীপ ঘোষের বদলে রাজ্য সভাপতি হয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। আর দিলীপ ঘোষ বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদে নিযুক্ত হয়েছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েই সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছেন সুকান্ত। এরপর তাঁর দিল্লি সফর অবধারিতই ছিল। সেইমতো সোমবার রাতে দিল্লি যাচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে জেপি নাড্ডার সঙ্গে দলের কাজকর্ম নিয়ে কথা বলতে পারেন তিনি। সুকান্ত নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলার দলীয় সংগঠনে কীভাবে কাজ করতে হবে, প্রয়োজনে সংগঠনে রদবদলের ক্ষেত্রে রাজ্য সভাপতির ভূমিকা কেমন হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতির পদে বসার পর থেকেই একাধিক বড় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশি বাধার সামনেও পড়েছেন। চলতি সপ্তাহেই কালীঘাটে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহত দলীয় কর্মীর মৃতদেহ নিয়ে মিছিলের সময়ে পুলিশের বাধা মুখে পড়েন তিনি। সুকান্ত মজুমদার এবং অন্য ২ সাংসদের বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও করেছে। এসবের পরই তাঁর সোমবারের দিল্লি সফর তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির লড়াই এবার কেমন হবে, তা নিয়ে নাড্ডা-শাহর পরামর্শ চাইবেন সুকান্ত।