আগরতলা, ৩ মে: কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ জানিয়েছেন, রাজ্যের অর্গানিক কৃষি ক্ষেত্রে এক বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে কারণ ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে অর্গানিক পদ্ধতিতে গম চাষ করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং ত্রিপুরা রাজ্য অর্গানিক ফার্মিং ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (টিএসওএফডিএ)-র সহায়তায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এফপিসি এবং অগ্রণী কৃষকদের সহযোগিতায় এই প্রকল্প সফলতার মুখ দেখেছে।
মন্ত্রী জানান, জিরানিয়া, লেফুংগা, হেজামারা, মান্দাই, বেলবাড়ি, জম্পুইজলা , তুলাশিখর, তেলিয়ামুড়া, অম্পি ও কল্যাণপুরের বিভিন্ন ক্লাস্টারে এই ফসলের চাষ করা হয়েছে। এটি অর্গানিক কৃষিক্ষেত্রে ফসলের বৈচিত্র্যকরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ত্রিপুরায় অর্গানিক ফসল উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে গম চাষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ২.১১৯ মেট্রিক টন প্রতি হেক্টর। অথচ চলতি বছরে অর্গানিক গমের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩.০৩ মেট্রিক টন প্রতি হেক্টরে, যা প্রচলিত চাষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এটি জাতীয় গড় উৎপাদন (প্রতি হেক্টরে ৩.৫ মেট্রিক টন)– অনেক কৃষক এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে, যা পুষ্টিসুরক্ষা, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন এবং এফপিসি-র মাধ্যমে কৃষকদের সমবায় অংশীদারিত্বের ফলে রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্যের উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হবে, যা আত্মনির্ভরতা, টেকসই উন্নয়ন ও বাজারমুখী প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন ত্রিপুরার অর্গানিক বাস্তুতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতাই এই সাফল্যের প্রতিফলন। এটি ভবিষ্যতে অর্গানিক গম চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, বীজ উৎপাদন এবং অর্গানিক আটা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের মতো মূল্য সংযোজন শিল্পের পথ প্রশস্ত করবে।
মন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ পুষ্টিসুরক্ষা, টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং অর্গানিক কৃষকদের জন্য বাজার সুযোগকে শক্তিশালী করবে, পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের উদীয়মান অর্গানিক কৃষি কেন্দ্র হিসেবে ত্রিপুরার অবস্থান আরও মজবুত করবে। এইদিন কৃষি মন্ত্রীর সাথে টিএসওএফডিএ-র মিশন ডিরেক্টার রাজীব দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।



















