নয়াদিল্লি, ৩ মে (আইএএনএস): অগ্রিম জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, দেশের সংবিধানই মানুষকে “নিপীড়নমূলক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে” সহায়তা করে।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১ মে খেরার অগ্রিম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভূঁইয়া শর্মাকে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর প্রেক্ষিতেই এই মামলার সূত্রপাত।
দিল্লি বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খেরা বলেন, “সংবিধান সকলকে রক্ষা করে। যখন কেউ সমস্যায় পড়ে বা নিপীড়নমূলক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন বি. আর. আম্বেদকর-এর তৈরি সংবিধানই তাকে সুরক্ষা দেয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমি যে স্বস্তি পেয়েছি, তা এই সংবিধানের কারণেই।”
বিচারপতি জে.কে. মহেশ্বরী ও অতুল এস. চন্দুরকর-এর বেঞ্চ গৌহাটি হাইকোর্টের সেই রায় খারিজ করে দেয়, যেখানে খেরাকে আগাম সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। শীর্ষ আদালত জানায়, তদন্ত অবশ্যই চলবে, তবে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তিস্বাধীনতা হেলাফেলা করা যায় না।
আদালত নির্দেশ দেয়, গ্রেফতারের পরিস্থিতি তৈরি হলে খেরাকে অগ্রিম জামিনে মুক্তি দিতে হবে, তবে নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে, প্রয়োজনে পুলিশের সামনে হাজিরা দিতে হবে, সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা প্রমাণ নষ্ট করা যাবে না এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়া যাবে না।
এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের তরফে জয়রাম রমেশ ও অভিষেক মনু সিংভি বলেন, এই রায় প্রমাণ করে যে ব্যক্তিস্বাধীনতা সর্বাগ্রে এবং গ্রেফতার কোনও সাধারণ প্রক্রিয়া নয়, বরং তা শেষ বিকল্প হওয়া উচিত।
সিংভি আরও বলেন, “ট্রিপল টেস্ট”—অর্থাৎ পলায়নের সম্ভাবনা, প্রমাণ নষ্ট করা বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার ঝুঁকি—এই বিষয়গুলি বিচার করেই গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তা না হলে গ্রেফতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
জয়রাম রমেশ মন্তব্য করেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আরও দৃঢ় করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে ন্যায়বিচারের আলো এখনও উজ্জ্বল।



















