নয়াদিল্লি, ৩ মে (আইএএনএস): বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রবিবার বলেন, “ভারতের মানুষ বোকা নয়” এবং কংগ্রেস আমলের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে দাবি করেন, “কংগ্রেসের পাপের শেষ নেই”।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে রিজিজু ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, তখন কি গণতন্ত্র সুস্থভাবে চলছিল? তিনি ১৯৭৩ সালে তিনজন সিনিয়র বিচারপতিকে উপেক্ষা করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ঘটনাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আগে বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরাসরি কংগ্রেস সরকার নিয়োগ করত, যা এখন কমিটি মারফত হয়।
রিজিজু আরও অভিযোগ করেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা পরিবর্তনের সময় তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ গোষ্ঠীগুলি নীরব ছিল। তাঁর কথায়, “কংগ্রেস যে পাপ করেছে তার শেষ নেই… ভারতের মানুষ সব বোঝে।”
এর পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে তারা সরকারি সংস্থা, ইভিএম, নির্বাচন কমিশন, সংবাদমাধ্যম এবং বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে, যা “ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর উপর আঘাত”। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষই এর “উপযুক্ত জবাব” দেবে।
এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন নির্বাচন কমিশন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ায় ওই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে ২১ মে পুনর্ভোটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলতা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুনর্ভোট হবে। ফলে ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি কেন্দ্রে ভোটগণনা হলেও ফলতা সেই তালিকার বাইরে থাকবে। ওই কেন্দ্রে ভোটগণনা হবে ২৪ মে।
এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট (পশ্চিম) কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনর্ভোট হয়, যা শনিবার সম্পন্ন হয়েছে।
ফলতা কেন্দ্র দ্বিতীয় দফার ভোটের আগেই বিতর্কে ছিল। নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
ভোটের দিন ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং পুনর্ভোটের দাবিতে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। পরে কমিশন তদন্তে নেমে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পায়।
সূত্রের খবর, নজরদারি ক্যামেরা বন্ধ থাকা, নেটওয়ার্ক সমস্যায় তথ্য কন্ট্রোল রুমে না পৌঁছানো এবং একাধিক বুথে ইভিএম টেপ দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও দুপুর ১টার মধ্যে টেপ সরানো হয়, ততক্ষণে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়ে যায়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



















