আগরতলা, ২ মে: রান্নার গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা আয়োজন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে এবং পরে পথসভায় রূপ নেয়। উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রবীর চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সম্প্রতি ১৯ কেজি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৯৯৩ টাকা বাড়িয়ে ৩০৭১ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের উপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। চলতি বছরে একাধিকবার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মোট বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৪৪২ টাকা ৫০ পয়সা।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে ধারাবাহিক নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই এই মূল্যবৃদ্ধি। ইউপিএ আমলে যেখানে সকল এলপিজি ব্যবহারকারী ভর্তুকি পেতেন, বর্তমানে তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে উজ্জ্বলা যোজনার অন্তর্ভুক্ত গ্রাহকদের মধ্যেই।
প্রবীরবাবু আরও বলেন, শুধু এলপিজি নয়, সিএনজি ও পিএনজির দামও রাজ্যে লাগাতার বাড়ছে। দিল্লির তুলনায় ত্রিপুরায় সিএনজির দাম অনেক বেশি হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের উচ্চ করনীতিকেই দায়ী করেন তিনি। অভিযোগ, বিভিন্ন কর ও সেসের বোঝা চাপিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে সরকার।
তিনি কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করে বলেন, একদিকে সাধারণ মানুষের উপর জিএসটি ও অন্যান্য করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে বিপুল করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে আয়ের বৈষম্য আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ মাশুল, পরিবহন খরচ, রেজিস্ট্রেশন ফি, জলকরসহ একাধিক ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের মূল্যবৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, গত কয়েক বছরে এসব খাতে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের অর্থনীতি নিয়ে সরকারের প্রচারিত তথ্য বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের উপর চাপানো এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নইলে সাধারণ মানুষের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়বে। কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, আগামী দিনেও তারা এই ইস্যুতে আন্দোলন জারি রাখবে।

















