আগরতলা, ১৬ জুন: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে রাজ্য সরকারও জনগণের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। মোহনপুর পুর পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী পুরসভাভিত্তিক জনকল্যাণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ এই কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রাজ্যের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাধারণ মানুষকে স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৫৬ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ১.০৮ লক্ষ মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমাজের চারটি প্রধান শ্রেণি—নারী, যুব, কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস, আই.সি.এ.আর.-এর সদস্য প্রদীপ বরণ রায়, মোহনপুর পুর পরিষদের সদস্য শ্যামল দেবনাথ ও কার্তিক আচার্য, এবং মোহনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক শান্তনু বিকাশ দাস প্রমুখ।
শিবিরে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে দুইজনকে ভর্তুকি মূল্যে পাওয়ার উইডার দেওয়া হয়। মোহনপুর পুর পরিষদের উদ্যোগে দুইজনকে সোলার লাইট প্রদান করা হয়। টি.ইউ.এল.এম.-এর উদ্যোগে পাঁচটি স্বসহায়ক দলকে ২৩ লক্ষ টাকার ঋণের মঞ্জুরিপত্র প্রদান করা হয়, পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি কিট বিতরণ করা হয়।
এরপর কৃষিমন্ত্রী মোহনপুরের কলাগাছিয়া এলাকায় অবস্থিত সম্প্রীতি সদন কমিউনিটি হলে মোহনপুর ব্লকভিত্তিক জনকল্যাণ শিবিরে অংশগ্রহণ করেন।এখানে বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে স্টল খোলা হয়, যেখানে উপভোক্তারা এবং মন্ত্রী স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।
শিবিরে মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দুইজন মৎস্যচাষিকে আইস বক্স, একজনকে কানি জাল, একজনকে দুই লক্ষ টাকার কে.সি.সি. ঋণের চেক এবং মৎস্যসহায়ক যোজনায় একজনকে ছয় হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রাকেশ দেব, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সদস্য জয়লাল দাস এবং মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সঞ্জীব কুমার দাসসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
























