কলকাতা, ১৬ জুন (আইএএনএস): দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং পাহাড়ি এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বশাসিত সংস্থা গোরখাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র কার্যকলাপে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে মঙ্গলবার ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বর্তমানে জিটিএ বোর্ড পরিচালনা করছে অনীত থাপা প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম), যা রাজ্যের পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাহাড়ি অঞ্চলের মিত্র দল।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পাহাড়ে প্রথম সফরে মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই পাহাড়ি এলাকায় স্কুলশিক্ষক ও পুলিশ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পাহাড় শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের গর্ব। আমি এখানে বেড়াতে আসিনি, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করছি। দেশের সুরক্ষায় পাহাড়ের মানুষ বছরের পর বছর আত্মত্যাগ করেছেন। আগের সরকারের আমলে পাহাড়ের কী অবস্থা ছিল, তা আমি জানি। এখন দেখবেন কীভাবে পাহাড়ের উন্নয়ন হয়।”
এই সভা থেকে তিনি তাঁর পূর্বসূরি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানতেন পাহাড়ের মানুষের ভোট তিনি পাবেন না। তাই উন্নয়নের বদলে পাহাড়কে তিনি অবকাশযাপনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। পাহাড়ি পুরসভাগুলিতে নির্বাচন না করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের টাকা লুট করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না। সবাইকে জেলে পাঠানো হবে। আমাদের বিজেপি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলবে।”
গোরখাল্যান্ড আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া তথাকথিত মিথ্যা মামলাগুলির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই সেগুলি অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া আন্দোলনের সময় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।



















