নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক টেলিকম জালিয়াতি এবং তথাকথিত ‘পিগ-বুচারিং’ বিনিয়োগ প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধচক্র দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নতুন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিলননিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং লাওসের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে সক্রিয় সাইবার অপরাধচক্রগুলি এখন তাদের কার্যক্রম ধীরে ধীরে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও নগদ অর্থের প্রবাহের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম নজরদারি থাকায় অপরাধচক্রগুলির কাছে দেশটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে শ্রীলঙ্কা পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একাধিক অভিযানে বিদেশিদের পরিচালিত বেশ কয়েকটি প্রতারণা চক্রের আস্তানা চিহ্নিত করেছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।
ক্যান্ডি, পানাদুরা এবং নেগোম্বোতে পরিচালিত অভিযানে বিলাসবহুল হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেগুলি প্রতারণা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা শত শত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং ‘সিম-বক্স’ ডিভাইস উদ্ধার করেছেন। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে একইসঙ্গে শতাধিক সিম কার্ড পরিচালনা করে হাজার হাজার প্রতারণামূলক ফোনকল ও বার্তা পাঠানো সম্ভব।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আম্বাকান্দাভিলার একটি বিলাসবহুল হোটেলে অভিযান চালিয়ে ১৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩৩ জন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ভিয়েতনামের নাগরিক এবং একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চক্রগুলির নিয়োগকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনলাইন মার্কেটিং’ বা ‘ডেটা এন্ট্রি’ চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে কর্মী সংগ্রহ করে। পরে তাঁদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়।
‘পিগ-বুচারিং’ নামে পরিচিত প্রতারণা পদ্ধতিটি এই চক্রগুলির অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। এতে প্রতারকরা প্রথমে অনলাইনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রেমের বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে ভুয়া বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ লগ্নির জন্য প্রলুব্ধ করে।
এছাড়া প্রতারকরা ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান গোপন করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যাক হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ‘ফিশিং’ লিঙ্ক পাঠিয়ে ভুক্তভোগীদের স্থানীয় বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, চীনা ও নাইজেরীয় নাগরিকরাই মূলত এই ধরনের প্রতারণা চক্র পরিচালনা করছে এবং এসব কেন্দ্রের সঙ্গে মিয়ানমার ও কম্বোডিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।
_______



















