নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-এ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামাবাদের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পিওজেকের সাধারণ মানুষের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর অবজ্ঞা সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দেশের শত্রু’ বলে অভিহিত করেছেন।
জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রশাসন পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম বলপ্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। এই দমন-পীড়নে ৪০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যেই পরিষ্কার, যেখানে তিনি বিক্ষোভকারীদের দেশের শত্রু বলে আখ্যা দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী রানা সানাউল্লাহ সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের প্রশাসন যেসব ‘মুজাহিদিন’-কে প্রশিক্ষণ, অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছিল, তারাই এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই অস্ত্র ধরেছে। ভারতের দাবি, এই মন্তব্য পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদতের বিষয়টি কার্যত প্রকাশ্যে স্বীকার করারই সামিল।
জয়সওয়ালের বক্তব্য, “তথাকথিত নির্বাচন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতি মানুষের প্রত্যাখ্যানেরই প্রতিফলন। সহিংস পরিস্থিতির মুখে পিওজেকের মানুষ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছে বেআইনি হত্যাকাণ্ডের স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।”
আইএএনএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র ডাকা দীর্ঘ পদযাত্রা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন পিওজেকেতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দৃশ্যও সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোটলি এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে বহু মহিলা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালাচ্ছেন। রাওয়ালাকোট, মিরপুর-সহ একাধিক এলাকায় চলমান বিক্ষোভে বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সংগঠনগুলির দাবি, গত ৫ জুন থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, কয়েকশো মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং শতাধিক ব্যক্তিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।



















