নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): দেশের যুবকদের উসকানি দিতে এবং সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্যে বিদেশভিত্তিক একাধিক নেটওয়ার্ক সমন্বিতভাবে অনলাইন প্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে গোয়েন্দা সূত্র। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই নেটওয়ার্কগুলির উদ্দেশ্য হল বিক্ষোভে সহিংসতা উসকে দিয়ে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
এক শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর নির্দেশে ‘সিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) এবং শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ককে একযোগে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন বিক্ষোভ বা আন্দোলনে অশান্তি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই কাজে মূলত অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করা হচ্ছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাঁদের বিক্ষোভে ঢুকে সহিংসতা ছড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা এবং সেই ঘটনার ভিডিও বা ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।
সূত্রের মতে, এভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এমন একটি প্রচার গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে যাতে বিদেশে এই ধারণা তৈরি হয় যে, আন্দোলন দমনে ভারতীয় পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।
আরও এক আধিকারিকের দাবি, দাঙ্গা বা সাম্প্রদায়িক হিংসার অভিযোগে আগে গ্রেফতার বা অভিযুক্ত হয়েছে, এমন ব্যক্তিদের বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, তাঁদের সহিংসতা উসকে দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, এই নেটওয়ার্কগুলির কার্যকলাপ মূলত উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। শুধু লোক নিয়োগই নয়, ইউটিউব-সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোয়েন্দাদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তান-সমর্থিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ, আইএসআই-সমর্থিত এই নেটওয়ার্কগুলি হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়ে নিয়োগ করা ব্যক্তিদের কাছে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে দেশের কিছু ভুয়ো দাতব্য সংস্থাও। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির মাধ্যমেও নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এটি কোনও তাৎক্ষণিক প্রচার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ধীরে ধীরে জনমতকে প্রভাবিত করে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করাই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। এরপর সেই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।

















