আগরতলা, ৩ মে : ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করল প্রদেশ কংগ্রেস। আজ প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ সভাপতি আশীষ কুমার সাহা ও মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বিজেপির বিরুদ্ধে “মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার” অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, মহিলা সংরক্ষণের প্রশ্নে কংগ্রেসের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। ২০১০ সালে রাজ্যসভায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। অথচ বর্তমানে বিজেপি সরকার এই ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়নি। বরং জনগণনা ও ডিলিমিটেশনকে সামনে এনে বিষয়টিকে জটিল করে তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, বর্তমান লোকসভা ও বিধানসভাতেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব ছিল।
প্রবীর চক্রবর্তী আরও বলেন, বিজেপি মহিলা ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে দেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং মহিলাদের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, মহিলাদের প্রকৃত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতৃত্ব দাবি করে, ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধীদের “মহিলা বিরোধী” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অথচ কংগ্রেস কখনও মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি, বরং দ্রুত কার্যকর করার দাবিই জানিয়ে এসেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ত্রিপুরা বিধানসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিলের বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সময়সীমা নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দেখা যায়।



















