Three injured in the accident : পৃথক স্থানে যান দুর্ঘটনায় আহত তিন, অবরোধ আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর।। পথ দুর্ঘটনা রোধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবিতে সোমবার বিশ্রামগঞ্জে সিপাহী জলা জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের মূল ফটকের পাশে আগরতলা সাবরুম জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাবরুম জাতীয় সড়কের বিশালগড় থানা এলাকায় প্রতিনিয়ত পথদুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। তাতে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের মাত্রা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফ থেকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন জাতীয় সড়কেযেভাবে বিটুমিন দিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে তাতে সামান্য বৃষ্টি কিংবা কুয়াশা পড়লেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়।

জাতীয় সড়ক দিয়ে দ্রুত বেগে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। সে কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়ে সোমবার বিশ্রামগঞ্জে সিপাহী জলা জেলা পুলিশ সুপারের মূল ফটকের সামনে আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘন্টা জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ ছুটে আসেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রশাসনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আপাতত অবরোধকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।


আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে তারা অদূর ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবেন।
অন্যদিকে ,সোমবার চড়িলাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের সামনে জাতীয় সড়কে বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে এক ছাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। আহত ছাত্রের নাম প্রিয়া দেব।
সোমবার বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ চরিলাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় আগরতলা সাবরুম জাতীয় সড়কে পথদুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। আহত ছাত্রের নাম প্রিয়া দেব। প্রত্যক্ষদর্শিরা আহত ছাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় বিশালগড় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন।অবস্থা সংকটজনক বলে আত্মীয়-পরিজনরা জানিয়েছেন। জানা গেছে প্রিয়া দেব নামে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি দ্রুতগামী বাইক এসে তাকে ধাক্কা দেয়। বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে সে গুরুতর ভাবে আহত হয়।


এদিকে স্থানীয় জনতা বাইক সহ চালককে আটক করেছেন। বিশালগড় থানার পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে অবৈধ কাঠ বোঝাই লরি আটকাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার উত্তর জেলার বনদপ্তরের কর্মীরা। চোরা কাঠ কারবারিদের লরির ধাক্কায় অল্পেতে রক্ষা‌ পেল এসডিএফও সহ বনদপ্তরের কর্মীরা। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩ টা নাগাদ খবর আসে চোরাকারবারিরা একটি লরিতে অবৈধ কাঠ বোঝাই করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। সে মোতাবেক এসডিএফও সহ বন দপ্তরের কর্মীরা ধর্মনগর তিলথৈ এলাকায় অপেক্ষারত অবস্থায় একটি কাঠ বোঝাই মারুতি অল্টু গাড়ি আটক করে। এর ঘন্টা খানেক পরেই আবারো খবর আসে আরো একটি টিআর-০৫-১৫০৯ নম্বরের বুলেরো পিকআপ লরিতে চোরাই কাঠ বোঝাই করে পানিসাগর চামটিলা এলাকার দিকে আসছে। সে মোতাবেক ঐ লরিটি আটক করার উদ্দেশ্যে এসডিএফও বনকর্মীদের নিয়ে পানিসাগর চামটিলা পেরিয়ে জলেবাসা রাস্তার দিকে এগোতেই অবৈধ কাঠবোঝাই লরিটি করার চেষ্টা করেন। পাট বোঝাই লরিটি বনদপ্তরের গাড়ির মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়ে পরে।

সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরের কর্মীরা গাড়িটি আটক করার চেষ্টা করতেই অবৈধ কাঠ বোঝাই লরিটি মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা বনদপ্তরের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে বনদপ্তরের গাড়িটির সামনের চাক্কাটি খুলে যায়। আহত হয় বনদপ্তরের চালক সহ বেশ কয়েকজন বনকর্মী। সঙ্গে সঙ্গে খবর পেয়ে পানিসাগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ও বনদপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় শনিবার বিকেলে চুড়াইবাড়ি বেতাঙ্গি এলাকা থেকে বনদপ্তরের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া বুলেরো পিকআপ গাড়িটিকে অবৈধ কাঠ সহ আটক করা হয়। এসডিএফও জানিয়েছেন উদ্ধার করা গাড়িটি পানিসাগর মহকুমার তিলথৈ এলাকার হুসানা বেগমের।পূর্বেও এই গাড়িটি অবৈধ কাঠ পাচারের দায়ে আটক করা হয়েছিল।প্রায় এক বছর যাবত বনদপ্তরের আটক ছিল গাড়িটি । পরিবর্তিতে জরিমানার ভিত্তিতে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।এছাড়া গাড়িটির সমনের অংশে লাগানো দুটি রড দেখে আন্দাজ করা যায় উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই পরিকল্পনা মাফিক সামনে থেকে বণদপ্তরের গাড়িকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এতে দপ্তরের কর্মীদের প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা ছিল । ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।এ ব্যাপারে পুলিশ একটি মামলা গ্রহণ করে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।