নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জুন: ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও পেশাগত মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি হন সভাপতি পদে নির্দল প্রার্থী মৃণাল কান্তি বিশ্বাস এবং সম্পাদক পদপ্রার্থী রঘুনাথ মুখার্জি। এদিন তাঁরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তোলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মৃণাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার যে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে, তা তিনি মানতে রাজি নন। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেসের যে কমিটি রয়েছে, তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ওই কমিটির সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনের জন্য কোনো দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এমনকি তাঁকে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবেও কোনো কিছু জানানো হয়নি।
মৃণাল কান্তি বিশ্বাস বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে আসছেন এবং আইনজীবীদের আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তিতেই এবারও নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। আইনজীবী সমাজের কল্যাণ, বার-এর উন্নয়ন এবং সদস্যদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিন তিনি আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চের বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়ন মঞ্চের প্রতিনিধি এবং বর্তমান সহ-সভাপতি সুব্রত দেবনাথ এতদিন বার-এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অতীতে কখনও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেননি। নির্বাচনের প্রাক্কালে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আইনজীবীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে সম্পাদক পদপ্রার্থী রঘুনাথ মুখার্জি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারি আইনজীবী বিদ্যুৎ সূত্রধরকে নিশানা করে বলেন, সরকারের দায়িত্ব পালন করতে করতে একইসঙ্গে আইনজীবীদের স্বার্থরক্ষার কাজ করা কঠিন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কক্ষে পোস্টার সাঁটিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
রঘুনাথ মুখার্জি আরও অভিযোগ করেন, সংবিধান বাঁচাও মঞ্চের সম্পাদক পদপ্রার্থী ভাস্কর দেববর্মা অতীতে আইনজীবীদের উপর হামলার ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা নেননি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আইনজীবী অমিত আচার্য হত্যাকাণ্ডের এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আইনজীবী উন্নয়ন মঞ্চ নির্বাচনী প্রার্থী করেছে, যা আইনজীবী মহলে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের আগে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন আরও বেশি চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এখন নজর রয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন আইনজীবীরা কাদের উপর আস্থা রাখেন এবং নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে যায়।



















