নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর৷৷ ২০২৩ এর বিধানসভা নির্বাচনের আরও প্রায় দেড় বছর বাকি৷ এরই মধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে৷ রাজ্যের সর্বত্রই শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা চলছে৷ সাথে রাজনৈতিক হিংসার আগুনও ছড়িয়েছে দিকে দিকে৷ গত কদিন ধরে রাজধানী আগরতলা শহর থেকে শুরু করে মহকুমা শহরগুলিতে সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ তাতে মানুষ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন৷ কোথাও পার্টি অফিসে অগ্ণিসংযোগ, কোথাও রাজনীতিকদের বাড়ি ঘরে হামলা ভাঙচুর৷ এক ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে গোটা রাজ্যেই৷
শাসক দল বিজেপির অভিযোগ নৈরাজ্যের সৃষ্টি করছে কমিউনিস্টরা৷ অন্যদিকে সিপিএমের অভিযোগ মানুষের জীবনের যন্ত্রণা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে শাসক দলের উপর আস্থা হারিয়ে মানুষ প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন৷ গোটা রাজ্যে এক নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে শাসক দল বিজেপি৷ বিরোধী রাজনৈতিক দলের মিছিলে সামিল হতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ৷ সিপিএমের অভিযোগ গত সাড়ে তিন বছরে গোটা রাজ্যের মানুষ এক অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন৷ এর থেকে মুক্তির জন্য মানুষ প্রতিবাদী হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছেন৷ আর সেটাই সহ্য করতে না পেরে হামলা হুজ্জুতি চালাচ্ছে শাসক দলের দুসৃকতিরা৷
বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের প্ররোচনাতেই গত ছয় সেপ্ঢেম্বর ধনপুরে অশান্তির আগুন জ্বালানো হয়৷ সেই থেকে রাজ্যের সর্বত্রই অশান্ত্রি বাতাবরণ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে৷ রাজ্যের শান্তি সম্প্রতি বিনস্ট করা হচ্ছে৷ ধনপুরে একটি সম্প্রদায়ের লোকদের ব্যবহার করে মানিক সরকার রাজ্যের সৌভ্রাতৃত্বের যে মেলবন্ধন রয়েছে তাতে আঘাত করার চেষ্টা হচ্ছে৷ কিন্তু, শাসক দল বিজেপি এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷
অন্যদিকে, সিপিএমের অভিযোগ রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি৷ নিজেদের অপশাসনের ও ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি হিংসার রাজনীতিতে নেমে পড়েছে৷ বিরোধী দলগুলির আওয়াজ স্তব্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ আন্দোলনের নামে রাজপথে গুন্ডামি করছে৷ বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে৷ গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা হচ্ছে৷ বিরোধী দল সিপিএমের নেতা কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে৷ সাংগঠনিক কর্মসূচিকে প্রতিহত করা হচ্ছে৷
রাজনৈতিক দলগুলির এই হিংসাত্মক কার্যকলাপে গোটা রাজ্যের মধ্যে এক অস্থির বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য করা হচ্ছে৷ একদিকে কোভিডের কারণে রাজ্যের মানুষের জীবনযাপনে ছন্দ পতন ঘটেছে গত দুই বছর যাবৎ৷ তার উপর রাজনৈতিক দলগুলির এই হিংসা- হানাহানি জনগণকে আরও বেশী বিচলিত করেছে৷ প্রায় প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসার খবর মিলছে৷ বিজেপি- সিপিএমে পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে৷ সব মিলিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যে রাজনৈতিক হিংসার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে সে বিষয়ে এখনই আশঙ্কা করছেন তথ্যাভিজ্ঞ মহল৷ গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই সাধারণ মানুষের চাহিদা৷ এভাবে যদি হিংসার রাজনীতি চলতে থাকে তাহলে কোভিডের পরিস্থিতিতে যেখানে এই পার্বতী রাজ্য ত্রিপুরা পিছিয়ে আছে সেখানে এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা রাজ্যটাকে আরও পিছিয়ে নিয়ে যাবে৷ তাই হিংসার রাজনীতি বন্ধ করে মানুষের মধ্যে ভয়ের যে বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলির সংযত হতে হবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের দাবি৷

