আগরতলা, ২৫ মে : জ্বালানি সংকটের জেরে ব্যয় সংঙ্কোচনে রাজ্য সরকার দফতর পরিচালনায় নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সপ্তাহে পাঁচদিন কর্মদিবস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এতদিন শুধুমাত্র দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি থাকলেও এবার থেকে সমস্ত শনিবারই ছুটির আওতায় আসছে। ফলে পাঁচদিন খোলা থাকবে সমস্ত সরকারি অফিস। তবে কর্মঘণ্টায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি অফিসের সময়সূচি হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
তিনি জানান, অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে নতুন সিদ্ধান্ত। এর ফলে এখন থেকে সমস্ত রাজ্য সরকারি দফতর পাঁচদিন খোলা থাকবে। প্রত্যেক শনিবার বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি অফিসের কাজের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সোম থেকে শুক্রবার সরকারি দফতর চলবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
মন্ত্রী আরও জানান, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মচারীদের জন্য চালু থাকা রোস্টার ভিত্তিক ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ব্যয় সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ সরকারি বৈঠক এখন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সরকারি কাজে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয় ও আউটসোর্সিংয়ের উপর জোর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন দফতরে মোট ৮১টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান, পূর্ত দফতরে ২৬টি লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি পদ প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এছাড়াও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ৫০টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রান্সলেটর ১টি, রিপোর্টার ১৩টি, স্ক্রিপ্ট রাইটার ১টি, কালচারাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ৭টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট ফটোগ্রাফার ১টি, ফোক আর্টিস্ট ২টি, অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান ১টি এবং এলডিসি ২৪টি পদ।
অন্যদিকে, অর্থ দফতরের অধীনে ক্ষুদ্র সঞ্চয় বিভাগের পাঁচটি ইন্সপেক্টর পদেও নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আশ্বস্ত করে বলেন, রাজ্যে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মজুত রয়েছে।



















