নয়াদিল্লি, ১৫ মে (আইএএনএস): ফরিদাবাদ মডিউল ভেঙে দেওয়ার পর প্রথমদিকে সেটিকে জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হলেও, তদন্তে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) জানতে পেরেছে যে মডিউলটি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর ব্যানারে কাজ করছিল। ভারতের প্রেক্ষাপটে জেইএমের তুলনায় এই সংগঠনটি অনেক কম পরিচিত।
এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় চিকিৎসক উমর উন নবী-এর নেতৃত্বাধীন এই মডিউল যুবকদের আকৃষ্ট করতে সাময়িকভাবে জেইএমের নাম ব্যবহার করেছিল। তদন্তকারীদের মতে, এজিইউএইচ-এর তুলনায় জেইএমের নাম যুবসমাজের মধ্যে বেশি পরিচিত হওয়ায় এই কৌশল নেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে মডিউলটিকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত বলে মনে হলেও তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত জম্মু-কাশ্মীরের কিছু ব্যক্তি তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।
তদন্তকারীরা জানান, এজিইউএইচ মূলত জম্মু-কাশ্মীরে সক্রিয় থাকলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সংগঠনটি আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত, জেইএম বা লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে নয়।
তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিকের দাবি, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত কৌশল। জেইএম বা লস্করের নাম এলেই পাকিস্তানের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর সেই কারণেই আইএসআই বিষয়টিকে আড়ালে রাখতে চেয়েছিল।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্ত ফরিদাবাদ মডিউলটি বাস্তবে স্বাধীন ছিল না। জম্মু-কাশ্মীরে সক্রিয় আইএসআই-ঘনিষ্ঠ কিছু হ্যান্ডলার মডিউলটির কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করছিল।
মডিউলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডাঃ শাহীন শহীদ-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জম্মু-কাশ্মীরের মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াগে-এর। তদন্তকারীদের মতে, লজিস্টিক সহায়তা ও সদস্যদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই মডিউলের লক্ষ্য কাশ্মীরের ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতা নয়। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেখানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করা। সদস্যদের বিশ্বাস ছিল, শরিয়া আইন চালু হলে জম্মু-কাশ্মীরকে প্রকৃত অর্থে ‘মুক্ত’ করা সম্ভব হবে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের পরিকল্পনাও করা হচ্ছিল। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল আতঙ্ক সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলা।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের বক্তব্য, ফরিদাবাদ মডিউল ‘আজাদি’-র রাজনৈতিক স্লোগান থেকে সরে এসে ধর্মীয় প্রচারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল, রাজনৈতিক স্বাধীনতার চেয়ে ধর্মীয় মতাদর্শ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলবে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মডিউলটির কার্যপদ্ধতিতে আল-কায়েদা বা আইএস-এর মতো জঙ্গি সংগঠনের কৌশলের মিল পাওয়া গেছে। যুবকদের প্রভাবিত করতে অনলাইন বার্তা ও মতাদর্শ প্রচারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।



















