কলকাতা, ১৫ মে (আইএএনএস): সংশোধনাগারের ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের দীর্ঘদিনের সমস্যার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দক্ষিণ কলকাতার রাজ্যের বৃহত্তম সংশোধনাগার প্রেসিডেন্সি সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমের সুপারিনটেনডেন্ট এবং চিফ কন্ট্রোলারকে শুক্রবার সাসপেন্ড করা হয়েছে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমে একটি বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কারেকশনাল সার্ভিসেসের ডিজি নটরাজন রমেশ বাবু এবং কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ভি.এস.আর. অনন্তনাগ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভিযানের পর বন্দিদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রবণতা চলছিল, যা হয় পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতি নয়তো প্রত্যক্ষ মদতেই সম্ভব হয়েছিল।
তিনি বলেন, “সংশোধনাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা সম্ভব নয়। মোবাইল উদ্ধারের ঘটনার পর প্রেসিডেন্সি সেন্ট্রাল কারেকশনাল হোমের সুপারিনটেনডেন্ট এন. কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের অন্যান্য সংশোধনাগারেও একই ধরনের অভিযান চালানো হবে, যাতে বন্দিরা জেলের ভিতর থেকে মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালাতে না পারে।
তিনি সংশোধনাগারের কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “অপরাধে সহায়তা করা অপরাধ করার সমান। তাই যারা অপরাধে জড়িত বা অপরাধে সহায়তা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়াও, প্রেসিডেন্সি জেল থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সিম কার্ডগুলি কার নামে নথিভুক্ত রয়েছে, তা খুঁজে বের করার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।



















