লখনউ, ২৪ মে (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করার নির্দেশ দিলেন মায়াবতী। রবিবার লখনউয়ে দলের রাজ্য ইউনিটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র কর্মীদের সংগঠন বিস্তার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
লখনউয়ের মল অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকে মায়াবতী বলেন, দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে নতুন ও গুরুতর চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। তাই প্রস্তুতিকে আরও “দক্ষ ও সতর্ক” করতে হবে।
তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশে পঞ্চমবারের জন্য জনমুখী সরকার গঠনই দলের লক্ষ্য। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএসপি-র প্রতি সমর্থন ক্রমশ বাড়ছে।
বৈঠকে বুথস্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য থেকে শুরু করে বিধানসভা, জেলা এবং রাজ্য কমিটির পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সংগঠন সম্প্রসারণ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দলীয় আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্টও পেশ করেন।
আগের বৈঠকে দেওয়া নির্দেশগুলি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও মায়াবতী কর্মীদের আত্মতুষ্টি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলি “প্রতারণামূলক রাজনীতি” করছে।
দলের কর্মীদের সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একত্রিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “হাতি চিহ্নে বোতাম টিপুন, ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনুন” স্লোগানকে সামনে রেখে জয়ের জন্য কাজ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত রাখার উপরও জোর দেন তিনি।
সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মায়াবতী বলেন, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পাঞ্জাবে আগামী নির্বাচনের আগে ওই ভোট থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় শাসক দলগুলি প্রায়শই মেরুকরণ এবং ইস্যু ঘোরানোর রাজনীতি করে, কিন্তু পরে মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়।
মায়াবতীর দাবি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং বিভিন্ন নীতিগত চাপের কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলগুলি ভোটের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে মানুষের কথা ভুলে যায়।
দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে বড় শিল্পপতি ও ধনীদের স্বার্থ নয়, সংবিধান ও জনকল্যাণমূলক নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে।
এছাড়া তিনি কানশি রাম-এর ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’ আদর্শের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, বিএসপি এখনও সেই পথেই এগিয়ে চলেছে।



















