নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৮ জুলাই: ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্গদর্শনে ও মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার নেতৃত্বে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর বিশ্বমানের ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রগতিশীল নীতির মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত আইটি বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা রাজ্যকে তথ্যপ্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছে।
এই লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর (ডিআইটি) ৯ ও ১০ জুলাই ২০২৬, আগরতলার হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করতে চলেছে। এই বিশেষ বিনিয়োগ সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন (ডোনার) মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকগণ, বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিগণ, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর একটি বিশেষ আইটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে, যেখানে ত্রিপুরার ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্র, বিনিয়োগের পরিকাঠামো এবং আইটি ও ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে নীতি ইত্যাদি তুলে ধরা হবে। এই প্যাভিলিয়ন বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য সুযোগ অন্বেষণ ও সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সিঙ্গেল-উইন্ডো হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রদর্শনীতে আইটি পার্ক, ডেটা সেন্টার, ইনকিউবেশন ও ইনোভেশন পার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এভিজিসি-এক্সআর, স্টার্টআপ ও এন্ট্রেপ্রেনারশিপ, বিপিও/কল সেন্টার, ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম ডিজাইন ও উৎপাদন (ইএসডিএম) এবং উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ত্রিপুরা স্টার্টআপ নীতি, ত্রিপুরা ডেটা সেন্টার নীতি এবং ত্রিপুরা আইটি/আইটিইএস নীতিও প্রদর্শিত হবে। এখানে ত্রিপুরার সফল স্টার্টআপগুলির কাহিনিও তুলে ধরা হবে।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বি২জি বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিমযয়ের আয়োজন করা হবে, যেখানে একাধিক মউ স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দপ্তর বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন ও বিনিয়োগকারীদের রোডশোতে অংশগ্রহণ করে ত্রিপুরাকে একটি উদীয়মান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টাগুলি শিল্পক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো, আইটি পরিষেবা, ইলেকট্রনিক্স ও উদ্ভাবনী শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য ত্রিপুরার অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এই বিনিয়োগ প্রচার ইতিমধ্যে উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল দিয়েছে। ৩০০, রও বেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ৩৫টিরও বেশি মৌ ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সম্মেলনে আইটি ক্ষেত্র সম্পর্কিত ১০০.রও বেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেলসফোর্স, সিটিআরএলএস ডেটাসেন্টারস লিমিটেড, ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল), এসইএএস বায়োটেক, ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস রোবোটিক্স ল্যাবরেটরি (ডিএসআরএল) এবং টেলিকমিউনিকেশনস কনসালট্যান্টস ইন্ডিয়া লিমিটেড (টিসিআইএল), এর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এই ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬,এ তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর নয়টি বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছে, যথা অত্যাধুনিক আইটি পার্ক পরিকাঠামো হাব উন্নয়ন; ইনকিউবেশন ও ইনোভেশন পার্ক স্থাপন; ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো স্থাপন; বিপিও ও কল সেন্টার হাব স্থাপন; ফিনটেক কার্যক্রম স্থাপন; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়ন হাব স্থাপন; অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং, কমিকস ও এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (এভিজিসি, এক্সআর) উৎপাদন ও দক্ষতা উন্নয়ন হাব; সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম ডিজাইন এবং উৎপাদন (ইএসডিএম) সমন্বিত সুবিধা; এবং সাইবার সুরক্ষা পণ্য ও আইওটি সেন্সর নেটওয়ার্ক সম্বলিত প্রযুক্তি হাব।
রাজ্য সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর সম্প্রতি রাজ্যের ডিজিটাল বাস্তুতন্ত্র ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রচারের লক্ষ্যে একাধিক জাতীয় পর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলন ও বিনিয়োগকারীদের রোডশোতে অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ছিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬, নয়াদিল্লিতে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা, বিজনেস মিট ২০২৬-এর বিনিয়োগকারী রোডশো এবং তারপরে হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু, গুয়াহাটি ও মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিনিয়োগকারী রোডশো। এই কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে ডিআইটি তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, আইটি সক্ষম পরিষেবা, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগ বান্ধব নীতিতে ত্রিপুরার শক্তিমত্তা তুলে ধরেছে, যা শীর্ষস্থানীয় শিল্প, প্রযুক্তি অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষিত করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর প্রগতিশীল নীতি, মজবুত ডিজিটাল পরিকাঠামো, বিনিয়োগকারী সহায়তা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ত্রিপুরার ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিনিয়োগকারী, শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এ আইটি প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে ত্রিপুরার প্রদত্ত বিপুল সুযোগ অন্বেষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।



















