ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ শুধুমাত্র একটি নাম নয়, এক আদর্শ : অমিত শাহ

পুনে (মহারাষ্ট্র), ১৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : মারাঠা যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ কেবলমাত্র একটি নাম নয় বরং এক আদর্শা। কারণ তাঁর অনুপ্রেরণামূলক জীবনকাহিনী প্রজন্মকে নিজের ভাষা ও ধর্মকে গর্বের সঙ্গে রক্ষা করতে জীবন দিতে প্রস্তুত থাকতে শিখিয়েছিল।

রবিবার ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত থিম পার্ক ‘শিব সৃষ্টি’-এর প্রথম পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, এই থিম পার্কটি কেবল ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনকাহিনীকে চিত্রিত করবে না বরং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবনের পাঠ এবং শিক্ষাগুলিও পৌঁছে দেবে। তাঁর শিক্ষাগুলি মানুষকে তাদের নিজস্ব ভাষা ও ধর্মকে গর্বের সঙ্গে পালন করতে অনুপ্রাণিত করবে এবং এজন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হবে।
তিনি আরও বলেন, থিমের একটি অংশ বাবাসাহেব পুরন্দরে, একজন লেখক এবং কবি, যিনি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের উপর তাঁর রচনাগুলির জন্য বেশি পরিচিত। থিম পার্কে হলগ্রাফি, প্রজেক্ট ম্যাপিং, মিনিয়েচার মোশন সিমুলেশন, ৩ডি-৪ডি টেকনিক, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড টেকনিক থাকবে। এই সবই ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং শুধু মহারাষ্ট্রের মানুষকে নয়, সমগ্র দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে বলে শাহ দাবি করেছেন।

ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের আদর্শ এবং ‘স্বরাজ’ (স্বাধীনতা) এর লক্ষ্য উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর প্রভাবের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে নয় বরং মুঘল রাজবংশ থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ‘স্বরাজ’ শব্দটি তৈরি করেছিলেন। “স্বরাজের পিছনের ধারণাটি ছিল সারা দেশে মারাঠা সাম্রাজ্যের গৌরব নিয়ে যাওয়া নয়। কটক, গুজরাট থেকে বাংলা পর্যন্ত মুঘলরা সর্বত্র রাজত্ব করেছিল। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ যিনি মুঘলদের হাত থেকে গুজরাটকে মুক্ত করেছিলেন এবং স্বরাজের বার্তা প্রচার করেছিলেন।
তিনি বলেন, তাঁর শাসনকালে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মুঘলদের হাতে ধ্বংস হওয়া মন্দিরগুলিও মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্দির পুনরুদ্ধার এবং নতুন নির্মাণের একই পথ অনুসরণ করছেন। অযোধ্যায় ভগবান শ্রী রামের একটি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে এবং কাশী বিশ্বনাথ করিডোরটিও পুনঃবিকাশ করা হচ্ছে। সোমনাথ মন্দিরও পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। পেশোয়া বাজি রাও, পেশোয়া নানা সাহেব, পেশোয়া মাধব রাও এবং অহিল্যাবাই হোলকার শিবাজি মহারাজের পথ অনুসরণ করেছিলেন এবং তাদের শাসনকালে মন্দিরগুলির পুনঃ উন্নয়নের জন্য কাজ করেছিলেন।