নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ জুন: শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত মনীষা দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কাঠালতলী এলাকার বাসিন্দা মনীষা দাস গত ১০ জুন আগরতলার মধুবনস্থিত শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর একটি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জারি হওয়া আদেশে বলা হয়েছে, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বিশাল কুমারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে জমা দেবেন।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনও ধরনের গাফিলতি বা তথ্য গোপনের সুযোগ থাকবে না। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তদন্ত পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য , আগরতলা শহর সংলগ্ন শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক কর্মী মনীষা দাসের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে কলেজের গার্লস হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মৃত মনীষা দাস (২৪) আমতলী থানাধীন কাঠালতলী এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন হাসপাতাল কর্মী ছিলেন। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব ভাগ করে নিতে তিনি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। তবে মনীষার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, তাঁর মৃত্যু রহস্যজনক এবং এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে তাঁকে প্রায়ই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হতো।
মনীষার মা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের ডিউটির সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও প্রায়শই তাকে রাতে কলেজে থাকতে বাধ্য করা হতো। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে আমতলী থানার পুলিশ মনীষার প্রেমিক আমবাসার এক যুবককে কলেজের সামনে থেকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আজ সন্ধ্যায় মনীষার বাড়িতে যান রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন ঝর্না দেববর্মার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। তাঁরা মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মনীষা মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মনীষার রাতে কলেজে ডিউটি না থাকলেও সেখানে রাতে থাকার জন্যে তাকে বাধ্য করা হতো বলে দাবি পরিবারের। এছাড়াও একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। সেই সম্পর্কেও ঝামেলা চলছিল, ফলে মানসিকভাবে ভেঙে গিয়েই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তদন্তে যদি কারও দায়িত্ব বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। মনীষা দাসের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
























