চণ্ডীগড়, ১১ জুন (আইএএনএস): সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত একটি মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দুই কিশোরও রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩০.০৪৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব।
গ্রেফতারদের পরিচয় গৌতম (২৪), কবির ওরফে কাকু (২২), সমীর ওরফে সাবরওয়াল (১৮), গুরপ্রীত সিং ওরফে কীড়া (১৮) এবং দুই কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, কবিরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। ছেহারতা থানায় তার বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা নথিভুক্ত ছিল।
হেরোইনের পাশাপাশি পুলিশ একটি মোটরসাইকেলও বাজেয়াপ্ত করেছে, যা অভিযুক্তরা মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করত।
ডিজিপি গৌরব যাদব জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে ধৃতরা দুবাই-ভিত্তিক এক মাদক পাচারকারীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই পাচারকারী সীমান্তের ওপার থেকে হেরোইনের চালান পাঠানোর ব্যবস্থা করত। তার নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্তরা নির্দিষ্ট স্থান থেকে মাদকের চালান সংগ্রহ করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করত।
তিনি বলেন, “চক্রটির সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অর্থ লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। হাওলা চক্রের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার জানান, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গৌতম ও তার দুই কিশোর সহযোগীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকেই ৩০.০৪৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়।
গৌতমের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরে কবির, সমীর এবং গুরপ্রীত সিংকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে দুবাই-ভিত্তিক ওই পাচারকারীই এই মাদক চক্রের মূলচক্রী। তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি বড় এনডিপিএস মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৪২ কেজি হেরোইন উদ্ধার এবং ১০ কেজি ‘আইস’ (মেথামফেটামিন) উদ্ধারের মামলাও রয়েছে।
দুবাই থেকে বসেই সে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ ও কিশোরদের মাদক চক্রে যুক্ত করত এবং তাদের দিয়ে মাদকের চালান সংগ্রহ, পরিবহণ ও সরবরাহ করাত বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই চক্র ভেঙে দেওয়া সীমান্ত-পার মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য এবং গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
______



















