নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রেখেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শিক্ষামন্ত্রকের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন বলেও জানান।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা প্রহ্লাদ জোশী, প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার উপর পূর্ণ আস্থা রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। গতকাল আমি কর্নাটকে ছিলাম। রাতে দিল্লি ফিরে আজ সকালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রকের সব বিষয় বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কোথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কী তথ্য সংগ্রহ করতে হবে—সবকিছু পর্যালোচনা করছি। সকাল প্রায় ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটানা বৈঠক করেছি। এই বিষয়টি আমার কাছে নতুন। পুরো বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার পর বিস্তারিত জানাব।”
এর আগে ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জোশী লেখেন, “আজ আমি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমার উপর আস্থা রেখে এই দায়িত্ব অর্পণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে এবং গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”
প্রহ্লাদ জোশীর এই নিয়োগ এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষামন্ত্রক তীব্র জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সংবিধানের ৭৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার ভিত্তিতে গ্রহণ করেছেন।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তিনি খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাবেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে তাঁর এই পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















