ওয়াশিংটন, ৩১ মে (আইএএনএস): ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনায় সাফল্য না এলে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হল ইরান যাতে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “আমরা একটি খুব ভালো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি। যদি ভালো চুক্তি হয়, তাহলে সেটাই হবে। না হলে আমরা অন্য পথ নেব, যেটিকে আমরা ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বলি।”
ট্রাম্পের দাবি, ইরান ইতিমধ্যেই এমন একটি শর্তে সম্মত হয়েছে, যেখানে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না।
তিনি বলেন, “আমার একমাত্র নিশ্চয়তা দরকার যে ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে সম্মত হয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনার সময় তিনি ইরানের অন্য কোনও উৎস থেকে পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনার বিষয়টিও উত্থাপন করেন। এরপর আলোচনার খসড়ায় সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্পের কথায়, “প্রথমে তারা বলেছিল, আমরা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করব না। আমি প্রশ্ন করি, যদি তোমরা কিনে নাও তাহলে কী হবে? এখন শর্তে যোগ হয়েছে যে তারা কোনওভাবেই সামরিক পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না।”
তিনি স্বীকার করেন যে আলোচনা সহজ নয় এবং ইরানের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত কঠিন আলোচক। তবে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
“তারা খুব কঠিন আলোচক। সময় লাগছে। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা যা চাই, তার কাছাকাছি পৌঁছচ্ছি বলে মনে হচ্ছে,” বলেন ট্রাম্প।
একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদি মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করে এমন চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ট্রাম্প বলেন, “যদি আমরা আমাদের চাওয়া না পাই, তাহলে অন্য উপায়ে বিষয়টির সমাপ্তি ঘটানো হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং সেই কারণেই আলোচনায় এগোতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সফল চুক্তি হলে প্রণালীটি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে কোনও ধরনের টোল আরোপ করা যাবে না।
“প্রথমত, হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দিতে হবে এবং তা সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারবে না,” বলেন তিনি।
আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম) তাঁর ইরান নীতিকে প্রভাবিত করবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাকে যা সঠিক মনে হবে, সেটাই করতে হবে।”
সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাও করেন এবং ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে করছাড় ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নীতির বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে তেহরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তাঁর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



















