আগরতলা, ২৫ মে : আইনের রক্ষকরাই যখন অভিযুক্তের কাঠগড়ায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ঘিরে। তেলিয়ামুড়া থানার বহুল আলোচিত ফেনসিডিল কাণ্ডে সামনে এসেছে তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধারের পর সরকারি নথিতে মাত্র ৫১৮ বোতল বাজেয়াপ্ত দেখিয়ে বাকি অংশ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে চার পুলিশকর্মীকে। পাশাপাশি তাঁদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের খোয়াই জেলা আদালতে তোলা হলে আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত মহিলা পুলিশ অফিসার শম্পা দাস।
গ্রেফতার হওয়া পুলিশকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড ওসি ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মা, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং, ওমেন সাব-ইন্সপেক্টর শম্পা দাস এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের তেলিয়ামুড়া ইউনিটের আইসি এএসআই শচীন্দ্র দেববর্মা। রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের নির্দেশে ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল আটক হলেও সরকারি নথিতে তার প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের একটি বড় অংশ গোপনে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এরপরই শুরু হয় গোপন তদন্ত। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ ছিল।
রবিবার গভীর রাতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ দল তেলিয়ামুড়া থানায় পৌঁছে গ্রেফতারি অভিযান চালায়। সোমবার ধৃত চারজনকে খোয়াই জেলা আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্তে রয়েছেন এন্টি নার্কোটিক শাখার ডিএসপি পৌষধন রূপিনী এবং ইন্সপেক্টর রঘুলাল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেকেন্ড ওসি অজিত দেববর্মা এবং এসআই রাজেন্দ্র রিয়াংকে গত ২৩ মে তেলিয়ামুড়া থানা থেকে ক্লোজ করে খোয়াই পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে ওমেন এসআই শম্পা দাস এবং এএসআই শচীন্দ্র দেববর্মাকে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করে মেডিক্যাল পরীক্ষার পর আদালতে তোলে।
ঘটনায় তেলিয়ামুড়া থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫, ৩০৬, ৩১৬(৫), ৬১ ধারার পাশাপাশি এনডিপিএস আইনের ২১(সি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনও মাদক চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যাঁদের হাতে সমাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষ ভরসা রাখবে কোথায়?
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
শান্ত তেলিয়ামুড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে সর্বস্তরে। এখন নজর আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।



















