দুর্গাপুর, ২ ফেব্রুয়ারি (হি. স.): মুখ্যমন্ত্রী যখন জলস্বপ্ন প্রকল্পের উদ্বোধনে ব্যাস্ত। অন্যদিকে তখন খনি অঞ্চলে পানীয় জলকষ্টের প্রতিবাদ ক্ষোভে ফেটে পড়ল এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার পানীয় জলের দাবিতে অন্ডাল ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখাল অন্ডাল গ্রামপঞ্চায়েতের ধুবচুরিয়ার বাসিন্দারা। ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল বিশাল পুলিশবাহিনী।
শীতের শেষ হতেই ফি বছরও খনি অঞ্চল ও শিল্প তালুকে পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।অন্ডাল ব্লকের ধুবচুড়িয়া শিবমন্দির এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানীয় জলের কষ্টে ওষ্ঠাগত প্রান বাসিন্দাদের। আর তার প্রতিবাদে বৃহঃস্পতিবার অন্ডাল বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখাল গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভরত বাসিন্দারা জানান, “এটি একটি শিল্পতালুক এলাকা। এলাকায় শতাধিক পরিবারের বসবাস। আশেপাশে বড় বড় প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহারের কারণে ভুগর্ভস্ত জলের স্তরও নেমে গেছে। ফলে এলাকার কুয়ো-পুকুর সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। ধুবচুরিয়া গ্রামের শিব মন্দির পাড়া ও আশপাশের এলাকায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খাবার জলের সংকট রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,” রাজ্যে ১১ লক্ষ পরিবারে জলস্বপ্ন প্রকল্পের মধ্যমে বাড়ী বাড়ী পানীয় জল পৌঁছে যাবে। ইতিমধ্যে ৪ লক্ষ পরিবারে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে গেছে। এদিন বিক্ষোভকারীরা বলেন, “রাজ্য সরকার প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল দেওয়ার কথা বলেছেন। আমাদের এলাকায় জলের পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু সেই পাইপে নিয়মিত জল আসে না। কখনও জলের চাপ না থাকায় জল পাওয়া যায় না। অনেক জায়গায় ওই পাইপে মোটর পাম্প বসিয়ে জল তুলছে। ফলে আরও জল আসে না। প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।” বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন,” দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন প্রতি বছর আমাদের কাছ থেকে জল কর নেয়। পানীয় জলের দাবিতে আমরা একাধিকবার একক ও যৌথভাবে নগর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। কয়েক মাস আগে পানীয় জলের জন্য একটি ট্যাঙ্কার পাঠানো হয়েছিল। এক সময় ট্যাঙ্কারের চাপায় একটি ছাগল মারা যায়। শুধু অজুহাত দেখিয়ে ওই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জল কিনতে হচ্ছে। যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। দৈনন্দিন প্রয়োজনে বহু দুর থেকে জল আনতে হয়। যার ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বৃদ্ধ, অসহায় মহিলা ও রোগীরা। অন্ডাল ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অফিসে লিখিত জানিয়েছি। শীঘ্রই এলাকার জল সমস্যার সমাধান না হলে বৃহৎ আন্দোলন হবে।” যদিও বিষয়টি তদন্ত করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে অন্ডাল ব্লক প্রশাসন।



















