নয়াদিল্লি, ২৪ মে (আইএএনএস): ভারতের কৌশলগত ও সামুদ্রিক শক্তিকে আরও মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ‘গ্রেট নিকোবর প্রকল্প’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প ভারতকে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, চীনের বাড়তে থাকা সামুদ্রিক প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।
চলমান এই প্রকল্পের লক্ষ্য গ্রেট নিকোবার দ্বীপ-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করা। আন্তর্জাতিক পূর্ব-পশ্চিম নৌবাণিজ্য পথের কাছাকাছি অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি ভারতের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দামান সাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বন্দরের অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি আন্তর্জাতিক পূর্ব-পশ্চিম শিপিং রুট থেকে মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত এবং এখানে প্রাকৃতিকভাবে ২০ মিটারেরও বেশি গভীর জল রয়েছে। এর ফলে বড় জাহাজের যাতায়াত সহজ হবে এবং ভারতকে কলম্বো, সিঙ্গাপুর এবং পোর্ট ক্লাং-এর মতো বিদেশি বন্দরের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর অবস্থান। এটি মালাক্কা প্রণালী-এর খুব কাছাকাছি, যা চীনের বাণিজ্য এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি চীনের তথাকথিত ‘মালাক্কা ডিলেমা’-কে আরও তীব্র করতে পারে।
প্রাক্তন সেনা আধিকারিক সঞ্জয় আইয়ার বলেন, “গ্রেট নিকোবর প্রকল্প সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি পূর্ব ভারত মহাসাগরে ভারতের স্থায়ী উপস্থিতি এবং নজরদারি ক্ষমতা বাড়াবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বন্দরগুলিতে এখনও বড় জাহাজের জন্য পর্যাপ্ত গভীর জলের সুবিধা নেই। ফলে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহণ এখনও বিদেশি বন্দরের মাধ্যমে হয়, যার কারণে ভারতের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়।
এই পরিস্থিতিতে গ্যালাথিয়া উপসাগর-এ আন্তর্জাতিক কনটেনার ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট (আইসিটিপি) গড়ে তোলা হচ্ছে। বিমানবন্দর, টাউনশিপ ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে এটিই গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চীন যেখানে বিভিন্ন দেশে বন্দর ও সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে, সেখানে গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক কৌশলে নতুন দিশা দিতে পারে।
______



















