নয়াদিল্লি, ২৪ মে: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-র সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলি দেশে অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত করছে এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পরিকল্পনা কখনও সফল হবে না।
কংগ্রেসের সংখ্যালঘু উপদেষ্টা কমিটির এক বৈঠকে রাহুল গান্ধী নাকি মন্তব্য করেছিলেন, “আগামী এক বছরের মধ্যে মোদি সরকার পড়ে যাবে।” তাঁর দাবি, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।
এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান পীযূষ গোয়েল। তিনি লেখেন, “রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য কংগ্রেস, বিরোধী দল এবং টুলকিট গ্যাংয়ের বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। এটি সাধারণ মন্তব্য নয়, বরং দেশে অরাজকতা তৈরির পরিকল্পনা।”
তিনি আরও বলেন, “যখন রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা বুঝতে পারলেন যে, দেশের মানুষের হৃদয় থেকে নরেন্দ্র মোদী-কে সরানো সম্ভব নয় এবং গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-কে পরাজিত করা যাচ্ছে না, তখন তাঁরা দেশে হিংসা উস্কে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।”
গোয়েলের অভিযোগ, কংগ্রেস দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপমান করছে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ যথেষ্ট সচেতন। তারা রাহুল গান্ধী, বিরোধী শিবির এবং দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে খুব ভালোভাবেই চেনে। ইন্ডিয়া জোটের দেশকে অশান্ত করার চক্রান্ত কখনও সফল হবে না।”
এদিকে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র-ও রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী অতীতেও এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালেও তিনি বলেছিলেন, এমন সময় আসবে যখন মানুষ রাস্তায় নেমে প্রধানমন্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মারবে।”
অন্যদিকে, একই বৈঠকে কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদ মুসলিম সমাজের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বার্তা নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলেন।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



















