লখনউ, ১০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : এক গুচ্ছ অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল এআইএমআইএম সুপ্রিমো আসাদুদ্দিন ওয়েইসির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কাটরা চন্দনায় এক জনসভায় দলের হয়ে প্রচার করার সময়ই ওয়েইসি সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে ওই জনসভায় করোনা বিধি ভাঙার অভিযোগও আনা হয়েছনআগামী বছর উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন।
এবিষয়ে বারাবাঁকির পুলিশ সুপারিটেন্ডেন্ট যমুনা প্রসাদ বলেন, “ওঁর ভাষণে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছিল। উনি দাবি করেছেন, ১০০ বছরের পুরনো রাম সানেহি ঘাটের মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকী ধ্বংসস্তূপও সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা সত্যের বিকৃতি। এই ধরনের মন্তব্য করে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন ও একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত দিতে চেয়েছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করেছেন ওয়েইসি।” এরই পাশাপাশি ওয়েইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর সভায় সামাজিক দূরত্বের কোনও বালাই ছিল না। তিনি নিজে এবং অন্যদেরও সেভাবে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি।
২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের কাউন্টডাউন কার্যত শুরু হয়েই গিয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস কিংবা সমাজবাদী পার্টির পাশাপাশি ওয়েইসির দলও ঝাঁপিয়েছে ভোট প্রচারে। আসন্ন নির্বাচনে ওয়েইসির দল ১০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেজন্যই তিনদিনের প্রচারে রাজ্যে এসেছিলেন ওয়েইসি। এদিনের সভায় ওয়েইসি ‘রণং দেহি’ মূর্তি ধারণ করতে দেখা যায় তাকে। তিনি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই দেশকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছেন। কেন্দ্রের তিন তালাক বিরোধী আইন প্রসঙ্গে ওয়েইসির খোঁচা, ”বিজেপি নেতারা মুসলিম মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অবিচারের কথা বলেছেন তিন তালাক প্রসঙ্গে। কিন্তু দেশের হিন্দু মহিলাদের দুর্দশা সম্পর্কে তাঁরা পুরোপুরি নীরব।” এরপরই তিনি বলেন, ”আমার বউদি (প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী) একা গুজরাটে থাকেন। তাঁর বিষয়ে কোনও উত্তর নেই কারও কাছে।” ওয়েইসির এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধেই অবমাননামূলক মন্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।

