আগরতলা, ৩১ মে: কেন্দ্রীয় আবাসন, নগরোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর আজ রাজ্য অতিথিশালার কনফারেন্স হলে নগরোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সমস্যা ও এর নিরসনে এক পর্যালোচনা সভায় মিলিত হন। পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা, বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ, মুখ্যসচিব জে.কে. সিনহা সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকগণ। কেন্দ্রীয় আবাসন, নগরোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর আজ একদিনের সফরে রাজ্যে আসেন।
পর্যালোচনা সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে বিদ্যুতের ভূমিকা অপরিসীম। তাই ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে সুচারু করার উদ্দেশ্যে কাজ করে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশ আজ বিভিন্ন বিষয়ে স্মার্ট হচ্ছে। তাই বিভিন্ন পুরোনো ব্যবস্থাগুলিকে স্মার্ট ও ডিজিটাল করার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আগরতলা পুরনিগম সহ রাজ্যের অন্যান্য নগরগুলির বিকাশেও বর্তমান রাজ্য সরকার সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয়মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
পরে সভার প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনাকালে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর নগরোন্নয়ন কিংবা বিদ্যুৎ সকল দপ্তরেই কাজের গুণগতমান নিয়ে যাতে আপোষ না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য নির্দেশ দেন। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যুৎ চুরি রোধ, বিলিং সিস্টেমকে প্রিপেইড করা, স্মার্ট মিটার লাগানো, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর নগরোন্নয়ন দপ্তরের স্বচ্ছ ভারত মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জানান, আগরতলা ওয়েস্ট ম্যানেমেন্ট স্কিমে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের শেয়ার মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহে স্বসহায়ক দলের মহিলাদের অন্তর্ভুক্তিকরণে কাজ করতেও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয়, কমিউনিটি ও পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য সভায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে ১১টি সিউয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করার কাজ চলছে। যা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। আগরতলা, ধর্মনগর, কৈলাসহর ও উদয়পুর শহরকে স্বচ্ছ রাখার কাজ আরও শক্তিশালী করার জন্য ২৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ দপ্তর সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর বলেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যের ২ লক্ষ বাড়িতে রুফ টপ সোলার প্যানেল বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের লোকসানের হার কমানো, স্মার্ট মিটার বসানো, ২০২৯-২০৩০ সাল নাগাদ রাজ্যের বিদ্যুতের চাহিদা ও তা মেটানোর উৎস এবং ইন্টারস্টেট ট্রান্সমিশন লাইন নিয়েও আজকের সভায় আলোচনা ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশে ১০০ গিগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।



















