নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ২৪ মে : কৈলাসহরের গৌরনগর আর.ডি. ব্লকের অন্তর্গত লাঠিয়াপুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খিলেরবন্ধ এলাকায় মাছ ধরার জালে আটকে পড়া এক বিষধর সাপকে উদ্ধার করে মানবিকতার পরিচয় দিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। সাপটিকে না মেরে উদ্ধারকারী দলের হাতে তুলে দেওয়ায় এলাকায় পরিবেশ সচেতনতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর এলাকার এক মৎস্যজীবী জলাশয়ে পাতা মাছ ধরার জাল তুলতে গিয়ে দেখতে পান, মাছের বদলে জালে জড়িয়ে রয়েছে একটি বিশাল আকৃতির বিষধর সাপ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে আতঙ্কিত না হয়ে গ্রামবাসীরা সাপটিকে আঘাত না করে কুমারঘাটের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ‘এনিমেল এইড অ্যালায়েন্স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ডা: গৌতম মল্লিকের নেতৃত্বে সুরজ মালাকার, অনুপ দেবনাথ, মৃদুল ঘোষ, প্রদীপ দেবনাথ, সাগর দেবনাথ ও রাহুল দেব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জাল কেটে সাপটিকে উদ্ধার করেন। পরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া সাপটি একটি মারাত্মক বিষধর ‘মনোক্লেড কোবরা’ বা কেউটে সাপ। জালে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় সাপটি সামান্য আহত হয়েছিল বলেও জানান উদ্ধারকারীরা।
এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডা: গৌতম মল্লিক বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে তাকে হত্যা না করে বনদপ্তর কিংবা উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, বনদপ্তরের সহযোগিতায় উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর পুনরায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর কৈলাসহর মহকুমা বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশ। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ও একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যেখানে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, সেখানে বনদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা হতাশাজনক। পাশাপাশি বনাঞ্চল ধ্বংস, অবৈধ বালি পরিবহন, কাঠ চোরাচালান এবং বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি ফার্নিচারের দোকান গজিয়ে ওঠার মতো ঘটনাতেও বনদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বনদপ্তর কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।



















