নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে দেশের স্বদেশি প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরের ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জনকে ভারতের পারমাণবিক যাত্রাপথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার নিজের মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান মন কি বাত-এর ১৩৩তম পর্বে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও আমরা দেশের সাফল্য ভাগ করে নিয়েছি। এই অর্জন দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত সবসময় বিজ্ঞানকে দেশের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছে। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের বিজ্ঞানীরা অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে শিল্পোন্নয়ন, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উপকার হয়েছে।”
তিনি জানান, সম্প্রতি কল্পক্কম-এ স্থাপিত প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়, যা রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত দেয়।
৫০০ মেগাওয়াট বৈদ্যুতিক ক্ষমতাসম্পন্ন সোডিয়াম-শীতলীকৃত এই রিঅ্যাক্টর মিশ্র অক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করে যতটা জ্বালানি খরচ করে তার থেকেও বেশি ফিশাইল উপাদান উৎপাদন করতে সক্ষম। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের বিপুল থোরিয়াম সম্পদ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই রিঅ্যাক্টর সম্পূর্ণভাবে স্বদেশি প্রযুক্তিতে নির্মিত, যা দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রমাণ। “এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নতুন জ্বালানিও তৈরি করতে পারে,” বলেন তিনি।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে কালপাক্কমে রিঅ্যাক্টরের কোর লোডিং প্রত্যক্ষ করার স্মৃতিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই প্রকল্পে যুক্ত বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের প্রচেষ্টা দেশের মানুষের জীবনকে আরও উন্নত ও সহজ করতে সাহায্য করবে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে নতুন গতি দেবে।
_______



















