নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ করে, নিজেদের ব্যর্থতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়াচ্ছে।
সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে আমরা পাকিস্তানের তরফে ভুয়ো খবর ও ভিডিও ছড়ানোর একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি। এটি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশি বর্বরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই অপকর্ম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পিওকের রাওয়ালকোট শহরে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে আটজন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর গোটা পিওকে জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে।
৯ জুনের নির্ধারিত আন্দোলনের আগে পিওকে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি-কে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে। এর পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেএএসি-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই রাওয়ালকোট বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইউরোপীয় টাইমস-এর প্রতিবেদনে স্থানীয় আন্দোলনকারী ও সংগঠনের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসন আন্দোলন ঠেকাতে একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ৫ জুন রাত থেকে গোটা পিওকে-তে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চলমান বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষে জেএএসি-এর দুই সদস্য শাহজাইব হাবিব ও আমজিদ কাশ্মীরির মৃত্যু জনরোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
এদিকে, আন্দোলন শুধু রাওয়ালাকোটেই সীমাবদ্ধ নেই। মুজাফফরাবাদ, মিরপুর, টাটা পানি এবং প্লান্ডারি-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং পথ অবরোধের খবর মিলেছে। বিশেষ করে প্লান্ডারিতে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।



















