নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ বিক্ষোভে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টার অভিযোগের তদন্ত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বা অন্য কোনও বিশেষ তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে দায়ের জনস্বার্থ মামলাটি (পিআইএল) প্রত্যাহারের অনুমতি দিল দিল্লি হাই কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীকে আইনের আওতায় উপলব্ধ অন্যান্য আইনি প্রতিকার গ্রহণের স্বাধীনতা দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আইন, ২০০৮ অনুযায়ী কোনও মামলার তদন্ত এনআইএ-কে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন যে তিনি আবেদনটি প্রত্যাহার করতে চান এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হওয়া-সহ অন্যান্য আইনি প্রতিকার গ্রহণ করবেন। সেই প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি প্রত্যাহার হিসেবে খারিজ করে।
শুনানির সময় দিল্লি হাই কোর্ট বারবার জানায়, এনআইএ কোনও অনুসন্ধানকারী সংস্থা নয়, বরং তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ আইনের ৬ নম্বর ধারায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কেবল সংস্থার এখতিয়ার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
আদালত মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে, এনআইএ-র এখতিয়ার প্রয়োগের জন্য আইনি প্রক্রিয়া কী, তা আমাদের জানান। এনআইএ অনুসন্ধানকারী সংস্থা নয়, এটি তদন্তকারী সংস্থা। প্রথমে একটি এফআইআর দায়ের হতে হবে। এরপর আইনে নির্ধারিত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আদালত কীভাবে আগে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়ে পরে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে?
আদালত আরও জানায়, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হয়। এরপর কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেয় মামলাটি এনআইএ তদন্তের উপযুক্ত কি না। আদালত মন্তব্য করে, আপনারা চাইছেন আমরা মত গঠন করি যে এটি এনআইএ তদন্তের উপযুক্ত মামলা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। আদালত কি কেন্দ্রের সন্তুষ্টির জায়গায় নিজের মত বসাতে পারে?
আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বরুণ কুমার সিনহা যুক্তি দেন, এনআইএ আইনের ৬(৩) ধারায় বর্ণিত অপরাধের গুরুত্ব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় এই মামলার তদন্ত কোনও বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, বিক্ষোভের সময় রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছিল।
তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। আদালত পুনর্ব্যক্ত করে যে, কোনও মামলার তদন্ত এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের। একইসঙ্গে পুলিশের কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাওয়ার আবেদনও খারিজ করে আদালত জানায়, কয়েক দিন আগেই এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টি দেখছে।
শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আবেদনকারী যদি অন্য কোনও বিশেষ তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চান, তবে সে বিষয়ে আদালত নোটিস জারি করতে পারে। তবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, কোন তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করবে, সেই সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নেবে।
সতীশ কুমার আগরওয়ালের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ মিছিল সংসদ ভবনের প্রবেশপথ অবরোধের চেষ্টায় পরিণত হয়। এর ফলে জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হয়, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বহু পুলিশকর্মী আহত হন।
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি আগরওয়াল তাঁর আবেদনে এফআইআর দায়ের, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে এনআইএ-সহ কোনও বিশেষ তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছিলেন।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই বিক্ষোভে রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং কয়েকটি সংগঠনের অংশগ্রহণ আন্দোলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থী কোনও সংগঠিত বা বহিরাগত শক্তির ভূমিকা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


















