নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস) : দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে শুক্রবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রক সূত্রের দাবি, বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। নিট প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের বিক্ষোভের আবহেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই এনটিএ-কে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের মতে, প্রশ্নফাঁস রুখতে পরীক্ষা পরিচালনার গোটা প্রক্রিয়াই নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এনটিএ-র কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও নিরাপদ করতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা রোধ করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার পরদিনই এনটিএ-র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি এনটিএ-র সাংগঠনিক কাঠামো ও পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই সংস্থার পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এনটিএ দেশের অন্তত ২০টি জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে জেইই, নিট এবং সিইউইটি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিও জোরালো হয়েছে।
এদিকে শুক্রবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান এবং ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের লক্ষ্যে একটি বিলের খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পেশ করা হতে পারে। প্রস্তাবিত বিলে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে রায় ঘোষণার নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এর আগে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিস্তৃত বিলের খসড়া তৈরি করেছে কেন্দ্র সরকার।


















