News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • সংবিধান সংশোধন করে এডিসির হাতে আরো অধিক ক্ষমতা ও অর্থ দেওয়ার দাবী জানালেন জীতেন্দ্র চৌধুরী
Image

সংবিধান সংশোধন করে এডিসির হাতে আরো অধিক ক্ষমতা ও অর্থ দেওয়ার দাবী জানালেন জীতেন্দ্র চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ মার্চ৷৷ মেঘালয় থেকে নির্বাচিত সাংসদ ভিনসেন্ট পালা আনীত সংবিধানের ৬৪ তপশীল ধারা

জীতেন্দ্র চৌধুরী

সংশোধন করার বেসরকারী বিল-এর উপর আলোচনায় অংশগ্রহন করে জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, খাদা ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল -এর আসন সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা এবং এডিসি এলাকার সমস্ত প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এডিসি-র হাতে ন্যাস্ত করতে হবে প্রস্তাবটি তিনি সম্পূর্ণ সমর্থন করেননা কিন্তু ৬১ তপশীল ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একমত৷
সংবিধান প্রণয়নের গোড়া থেকেই ধারা ২৪৪(২) এবং ২৭৫(১)মোতাবেক অবিভক্ত আসাম রাজ্যের জন্য ৬১ তপশীল প্রযোজ্য ছিল৷ সেই মোতাবেক ৫০ দশকের মাঝামাঝি থেকে ৬০ দশকের মধ্যে বর্তমান মেঘালয়া রাজ্যে ৩টি, যথাক্রমে খাসি, জয়ন্তিয়া এবং গারো হিলস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল, আসামে ২টি এনসিছিল এবং কার্বি আংলং এবং বর্তমান মিজোরামে রাজ্যে চাকমা, খার এবং লাই ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল৷ পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংশোধন করে ত্রিপুরাতে টিটিএএডিসি এবং আসামে বড়ো টেরিটোরিয়াম কাউন্সিল গঠিত হয়৷ সংবিধানে এই ধারা সংযোজনে মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিই ইল হল অঞ্চলের আধিবাসীদের জীবিকার মূল উৎস্য তার উপর কেন্দ্র করে জীবন ধারা, ভাষা এবং সংসৃকতি অস্তিত্ব৷ তাই এই সমস্ত অঞ্চলের অধিবাসী আদিবাসী সম্প্রদায় সমূহের ভূমির উপর আধিপত্য বজায়, সামাজিক ও সাংসৃকতিক বিকাশে সুষম বাতাবরন তৈরী করা এবং জনসংখ্যায় তারতম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে একটি রক্ষা কবচ সৃষ্টি করা৷
ত্রিপুরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন ত্রিপুরাকে ৬৪ তপশীলের আওতায় আনার প্রয়োজন হল? ত্রিপুরা ছিল একসময় সামন্ত রাজাদের শাসিত একটি ভূখন্ড৷ সাড়ে তেরশত বছর ধরে স্বনোত্রীয় রাজাদের শাসিত একটি স্বাধীন দেশ বা রাজ্য হলেও উপজাতি প্রজাদের জীবন যাত্রার মান কিছু উন্নতি হয়নি৷ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত৷ আধুনিক জীবিকা সম্পর্কে অঙ্গ৷ সম্পূর্ণ আদিম জীবিকা জুমচাষের উপর নির্ভরশীল৷ দেশ স্বাধীন হবার পর ত্রিপুরার প্রজাদের ও সামন্ত শোষনের যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সামিল হওয়ার আকাঙ্খা জাগে৷ তার ফলশ্রুতি ১৯৪৯ ইং সনের ১৫ই অক্টোবর ত্রিপুরা স্বাধীন ভারতের সহিত যোগদান করে৷ কিন্তু এতে ত্রিপুরার প্রজাদের দুঃখের অবসান হয়নি বা পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের মুক্তির আকাঙ্খা পূর্ণ হয়নি৷ দেশভাগের অভিশাপ স্বরূপ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভাগ্য বিরক্তি হয়ে হাজার হাজার হিন্দু বাঙালী পরিবার ত্রিপুরার আশ্রয় নিতে বাধ্য হন৷ তৎকালীন কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের উচিৎ ছিল এই অনুপ্রবেশের নিয়ন্ত্রণ করা এবং উদ্বাস্তদের সঠিক পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা৷ কিন্তু তা হয়নি এক সময়ে রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ট আদিবাসী সংখ্যালঘু হয়ে গেল৷ সরকারী পূষ্ঠ পোষকতার অভাবে অশিক্ষিত এবং সরল আদিবাসীরা তাদের জন্য কিন্তু আইনী রক্ষাকবচ থাকলেও অসাধু মহাজন এবং উপজাতি ভূস্বামীদের হাতে দ্রুত ভূমি হারাতে শুরু করল৷ শুধুমাত্র ভূমি থেকে উচ্ছেদই নয় আদিবাসীদের ভাষা, সংসৃকতি, ও ঐতিহ্যের উপর বহুমুখী সঙ্কট নেমে আসল৷
এই অবস্থাতে ৬০ দশকের শুরু থেকে গণমুক্তি পরিষদ এবং সিপিআই(এম) এর ডাকে ত্রিপুরাতে সংবিধান সংশোধন করে ৬ষ্ঠ তপশীল চালুর দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়৷ এই আন্দোলন দমন করার জন্য নানা প্রকার চেষ্টা হয়৷ সর্বশেষ বহু সংগ্রামের ফসল হিসেবে ১৯৭৮ সালে রাজ্যে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হবার পর কেন্দ্রে তৎকালীন জতনা পার্টি সরকারের সময়তে সংবিধান সংশোধন করে ১৯৮২ সালে ৭ম তপশীল মেতাবেক তারপর ১৯৮৫ সালে পুনরায় সংশোধন করে বর্তমান ৬ষ্ঠ তপশীল মোতাবেক এডিসি গঠিত হয়েছে৷
ত্রিপুরার এডিসি অন্য এডিসি সমূহ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র৷ এটি কোন একটি সম্প্রদায়ের জন্য চিহ্ণিত নয়৷ ১৯টি আদিবাসী সম্প্রদায় এবং অনুপজাতিরা ও এই এডিসিতে সামিল৷ তাই এটির নাম টিটিএএডিসি৷ ত্রিপুরার ৬৫ শতাংশ এলাকা টিটিএএডিসি-র অধীন৷ ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকায় যদি নাম না থাকে কোন অউপজাতি নতুন করে টিটিএএডিসি এলাকায় ভূমি ক্রয় বা অন্যভাবে মালিক হবার সুযোগ নেই৷ তবে আগে থেকেই যে সমস্ত অউপজাতিরা টিটিএএডিসি-র বাসিন্দা তাঁরা আদিবাসীদের মতই সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন৷
বিগত সাড়ে তিন দশকে এডিসি গঠনের পর আমাদের অভিজ্ঞতা নতুন করে এক জমিও আদিবাসীদের হাতছাড়া হয়নি৷ শিক্ষা-দীক্ষায় আদিবাসীরা ও ক্রমশঃ এগুচ্ছে৷ হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংসৃকতিতে নতুন জোয়ার এসেছে৷ একদা জুমজীবনের আমূল পরিবর্তন ঘটছে৷ এটা সম্ভব হয়েছে রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের আন্তরিকতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রভাব এবং এডিসি গঠনের সুফলের ফলে৷ রাজ্যে রাজ্যে মাঝে মধ্যে এই ধারাকে ভেঙ্গে দেবার চেষ্টা হলেও সফল হয়নি৷ টিটিএএডিসি এবং সারা রাজ্য একসাথে এগুচ্ছে৷
কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উন্নয়নের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য৷ এডিসি এলাকার মানুষের আকাঙ্খাকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্য ৬৪ তপশীলের দ্রুত সংশোধন প্রয়োজন৷ সংবিধানের ৭৩ ও ৭৪ তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত এবং নগর পঞ্চায়েত গটন্তুন করে উন্নয়ন কর্মসূচীতে জনগনের ব্যাপক অংশগ্রহন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে৷ এডিসিতে ভিলেজ কমিটি ব্যতীত অন্য ব্লক বা জেলা স্তরে কোন নির্বাচনের ব্যবস্থা নেই৷ নগর কমিটি গঠনের সুযোগ নেই৷ জন প্রতিনিধিত্বের এই সুযোগের অভাবে এডিসি এলাকার জনতান অর্থপ্রাপ্তি এবং অংশগ্রহণ দুটি থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে৷ অভ্যতার বিকাশের প্রশ্ণে ভাষা ও সংসৃকতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ রাজ্যের প্রধান উপজাতীয় ভাষা মৃত্যু দশা থেকে পেরিয়ে এসেছে কিন্তু এখনও সাবালকত্ব অর্জন করতে পারেনি৷ জাতীয় সংহতির প্রশ্ণেই ককবরক সহ অন্যান্য সমস্ত উপজাতীয় এবং প্রান্তিক ভাষা সমূহকে ৮ম তপশীলে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন৷ ব্লক, জেলা এবং নগর স্তরের নির্বাচিত সংস্থা না থাকার কারনে এডিসি সমূহ অর্থ কমিশন, নগরোন্নয়ন মন্ত্রক এবং আরো বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ এটা চলতে থাকা মানে এডিসি এলাকা সমূহ এবং তার জনগনকে আরো পেছনের দিকে ঠেলে দেয়া৷ এই বিল সম্পর্কে এবং এডিসি সম্পর্কে বিজেপি দলের সাংসদদের বিরূপ এবং নেতিবাচক সমালোচনার প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, বিজেপির সাংসদরা জানেনইনা কোন কোন রাজ্যে এই ধারা চালু আছে৷ তাঁরা আরো এক ধাপ এগিয়ে সংবিধানের ৫ম তপশীল এবং পিইএসএ আইন যার মোতাবেক দেশের মূল ভূখন্ডে আদিবাসীদের জমির সুরক্ষা এবং আরো কিছু অধিকার দেয়া আছে সেগুলিও ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিস করছেন৷ তিনি বলেন এই মানসিকতা দেশকে ছারখাড় করে দেবে৷ দেশের সবর্কটি আদিবাসী বলে রাজ্যসমূহে কেন খাদবাসী এবং অন্যান্য কার্য্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মূলে এই সমস্যাই৷ শ্রীচৌধুরী সুপারিশ করেন ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান এবং মহারাষ্ট্রের যে সমস্ত জেলায় আদিবাসী সংখ্যাগরিষ্ট সেখানেও সংবিধান সংশোধন করে ৬ষ্ট তপশীল চালু করা দরকার৷ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নত জীবন জীবিকার আদিবাসীদের ব্যপক ভাবে সামিল করেই খাদবাসী এবং অন্যান্য কার্য্যকলাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব৷
তিনি বলেন সরকারের উদাসীনতার কারনে অসম্পূর্ণ ভাবে হলেও শ্রী ভিনসেন্ট পালা প্রাইভেট রেজুলিয়েশন এনে ভালো করেছেন৷ এখন এটি সরকারের দায়িত্ব সরকার সময় এই না করে পূর্ণাঙ্গ বিল উত্থাপন করুন দেশের সার্বিক বিকাশ এবং জাতীয় সংহতিকে সুদুর করার স্বার্থেই ৬৪ তপশীলের সংশোধন এবং এডিসির আরো ক্ষ্যমতা ও অধিক অর্থ প্রদান করা প্রয়োজন৷

Releated Posts

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026
Scroll to Top