বুখারেস্ট, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): ভারত ও রোমানিয়ার জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি বলে মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রোমানিয়ায় তাঁর রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে বুখারেস্টে ভারতীয় প্রবাসী এবং ‘ফ্রেন্ডস অব ইন্ডিয়া’-র সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতি মুর্মু রোমানিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রোমানিয়ায় ভারতীয় প্রবাসী সমাজকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দেখে আমি আনন্দিত। রোমানিয়ার অর্থনীতি ও সমাজে আপনাদের অবদান এবং এখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রসারে আপনাদের প্রচেষ্টা আপনাদের ভারতের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”
শুক্রবার বুখারেস্ট ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিক স্টাডিজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সম্মানসূচক ডক্টরেট (ডক্টর অনোরিস কাউসা) প্রদান করে।
এই সম্মান গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি ভারত ও রোমানিয়ার জনগণের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। তিনি বুখারেস্ট ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিক স্টাডিজ-সহ রোমানিয়ার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
সম্মানসূচক ডক্টরেট গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি মুর্মু শিক্ষাকে তাঁর জীবনের “সবচেয়ে রূপান্তরমূলক শক্তি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে যে শিক্ষা এমন এক শক্তি, যা মানুষের জীবন এবং সমাজ—উভয়কেই বদলে দিতে সক্ষম।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি একটি ছোট গ্রামে খুবই সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, শিক্ষা হলো প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আপনি কোথায় জন্মেছেন, তা নয়—আপনি কত দূর এগিয়ে যেতে প্রস্তুত, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান হিসেবে এই ডক্টরেট তাঁকে শিক্ষা, জনসেবা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, তিন দেশের সফরের শেষ পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর এই সফর পূর্ব ইউরোপে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


















