News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশনের টাকা অন্য খাতে খরচ করছে সরকার, ৩ বছরে অব্যয়িত ৯৩২ কোটি, বিধানসভায় অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি
Image

রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও পেনশনের টাকা অন্য খাতে খরচ করছে সরকার, ৩ বছরে অব্যয়িত ৯৩২ কোটি, বিধানসভায় অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মার্চ৷৷ শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা এবং পেনশন খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে বলে বিধানসভায় স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা৷ অর্থমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তিতে বিরোধীরা কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন৷ চাপের মুখে বেসামাল অর্থমন্ত্রী অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে এদিন কার্যত বেঁচে যান৷
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিধায়ক রতনলাল নাথ জানতে চান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় তারকাচিহ্ণ বিহীন এক প্রশ্ণের উত্তরের প্রেক্ষিতে দেখা যায় কমিটেড এক্সপেনডিচার বাবদ ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যে অর্থ ধরা হয়েছিল সে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ব্যয় হয়নি এর পেছনে কারণ কি৷ প্রশ্ণের জবাবে অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা জানান, ঐ অর্থ বছরগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন উৎস থেকে আনুমানিক যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছিল, বছরের শেষে প্রকৃতপক্ষে তার থেকে অনেক কম অর্থ পাওয়া গেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হয়েছে৷ বছরের শেষে প্রকৃত অর্থ প্রাপ্তি এবং ব্যয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উক্ত বছরের এজি থেকে প্রাপ্ত ফিনান্স একাউন্টস’র মাধ্যমে বিধানসভায় ইতিমধ্যেই পেশ করা হয়েছে৷
অর্থমন্ত্রীর জবাবে বিধায়ক রতনলাল নাথ ভীষণ অবাক হন এবং প্রশ্ণ করেন কমিটেড এক্সপেনডিচার থেকে অব্যয়িত অর্থ কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হল না কেন? রতনবাবু বলেন, কমিটেড এক্সপেনডিচার অর্থ হল দায়বদ্ধ ব্যয়৷ কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন খাতে কত অর্থ ব্যয় হবে তা বছরের প্রথমেই জানা যায়৷ তিনি এক তথ্য তুলে ধরে জানান, রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭১১ কোটি ২৪ লক্ষ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৯০ কোটি ৮০ লক্ষ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৫৫ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা কমিটেড এক্সপেনডিচারের অব্যয়িত রয়েছে৷ তাতে তিন বছরে মোট অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১২৫৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা৷ এফআরবিএম অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতনভাতা ও পেনশনখাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৮৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২২৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা অব্যয়িত রয়েছে৷ এই তিনবছরে মোট অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ৯৩২ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা৷ তিনি বলেন, কর্মচারী ও পেনশনার্সদের এক শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দিতে প্রয়োজন ২৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা৷ সেক্ষেত্রে কর্মচারী ও পেনশনার্সদের ৩৮ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ঐ অব্যয়িত অর্থে৷ কিন্তু তাদের ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হল না কেন প্রশ্ণ তুলেন রতনবাবু৷ তখনই অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা জানান, আয় কম ছিল, তাই অব্যয়িত অর্থ অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে৷ অর্থমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, একথা স্পষ্ট যে, কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে টাকার অভাব নেই৷ কিন্তু এক খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্যখাতে ব্যয় করা হয়েছে৷ সুদীপবাবু জানতে চান, কোন আইনে কমিটেড এক্সপেনডিচার খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা এপ্রশ্ণের সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর দিতে পারেননি৷ তিনি যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেন, বাজেটে যা ধরা হয় প্রাপ্তি হিসেবে তা পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিরোধীরা আশ্বস্ত হতে পারেননি এবং কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কেন মিটিয়ে দেওয়া হল না সে বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন৷ তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অধ্যক্ষ রমেন্দ্রচন্দ্র দেবনাথ৷ প্রশ্ণোত্তর পর্বের সময় শেষ হয়ে গেছে একথা বলে আলোচনা এখানেই শেষ করে দেন এবং প্রশ্ণোত্তর পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷ তাতে এদিন বিধানসভায় কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ নিয়ে অর্থমন্ত্রী অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে বিরোধীদের তোপের মুখ থেকে বেঁচে যান৷

Releated Posts

শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…

ByByNews Desk Jun 2, 2026

অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ

নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…

ByByNews Desk May 27, 2026

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026
Scroll to Top