নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ মার্চ৷৷ কেন্দ্রের গুঁতোয় এখন রাজ্য প্রশাসনে চলছে প্রগতি রিপোর্ট তথা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তৈরীর তৎপরতা৷ দপ্তরগুলির আধিকারীকরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছেন প্রগতি রিপোর্ট তৈরী৷ একের পর এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যে আসছেন আর অভিযোগ করছেন রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে সঠিক ভাবে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করছে না৷ সেই জন্য প্রশাসন প্রগতি রিপোর্ট তৈরী করতে পারছে না৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিদের এই অভিযোগে রীতিমতো রাজ্য সরকার দিশেহারা৷
রবিবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রামমাধব সিং আগরতলায় এসে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বরাদ্দ অর্থ সঠিক ভাবে ব্যয় না করার তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছিলেন৷ এরই প্রেক্ষিতে কৃষি দপ্তরের আধিকারীকরা তৎপর হয়ে উঠেছেন৷ কৃষি দপ্তরের তরফ থেকে সোমবার প্রচারিত এক প্রেস বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি ক্ষেত্রে সয়েল হেলথ্ কার্ড, অর্গানিক ফার্মিং এবং প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিকাশ যোজনা ও চার জেলায় নতুন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র সংক্রান্ত যে কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলে গিয়েছেন সেই বিষয়ে দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী পর্যালোচনা করেছেন এবং এই সংক্রান্ত ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তথা প্রগতি রিপোর্ট আগামী ৩১ মার্চ ২০১৭ এর মধ্যে জমা করা হবে জানিয়েছেন৷
সয়েল হেলথ্ কার্ড ইস্যুতে কৃষি দপ্তরের তরফ থেকে বলা হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচী চালু করেছিল৷ ৩৪,৪০৯ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে৷ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল ৩২, ৭৩৬ টি৷ এখনও পর্যন্ত ৮৪,৭৮৮ টি হেলথ্ কার্ড বিলি করা হয়েছে৷ বাকিগুলি বন্টন করা হবে চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে৷
দপ্তরের তরফ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ বিকাশ যোজনায় অর্গানিক ফার্মিং কর্মসূচী অনুসারে ১৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ পুরো টাকাই ব্যয় করা হয়েছে এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়েছে৷ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩০৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হবে চলতি বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে৷
এমওভিসিডি প্রকল্পে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২০৮ কোটি টাকা পেয়েছে রাজ্য সরকার৷ এখনও পর্যন্ত ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি৷ দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এপ্রিলের মধ্যে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে৷ রাজ্যের চার জেলায় কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র খোলার বিষয়ে রাজ্য সরকারের বক্তব্য হচ্ছে ২০১১-১২ অর্থবছরে ত্রিপুরায় নতুন চারটি জেলা গঠিত হয়৷
অন্যদিকে, মৎস্য বিভাগে কোন অর্থবছরে কত টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে এদিন রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে রাজ্য পেয়েছে ১০২৩ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৯০৩ কোটি এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পেয়েছে ১১১১ কোটি টাকা৷ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এদিন কৃষি দপ্তরের প্রচারিত প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী মূল বিষয়বস্তুকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন৷
কেন্দ্রের গুঁতোয় কৃষি দপ্তরে বিভিন্ন প্রকল্পের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তৈরীর দৌঁড়ঝাপ
Releated Posts
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…


















