হায়দরাবাদ, ৩১ মে (আইএএনএস): তেলেঙ্গানার সাইবারাবাদ পুলিশ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার কথিত জমি কেলেঙ্কারি মামলায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল ও বিক্রির উদ্দেশ্যে ভুয়ো সরকারি আদেশ (জি.ও.) এবং জাল সরকারি নথি তৈরির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ রবিবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ভেলাদি রাধাকৃষ্ণ এবং তাঁর চালক গ্যারা প্রবীণ কুমার। মামলায় তাঁদের যথাক্রমে ৯ এবং ১০ নম্বর অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে পুলিশ এই কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, গান্ডিপেট এলাকায় প্রায় ১০ একর সরকারি জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা, তা জাল সরকারি নথির মাধ্যমে বেআইনিভাবে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছিল।
রঙ্গারেড্ডি জেলার গান্ডিপেট মণ্ডলের তহসিলদার শ্রীনিবাস রেড্ডির অভিযোগের ভিত্তিতে ২৩ মে নারসিঙ্গি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাধাকৃষ্ণ ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ সচিবালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিভাগে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, জমি নিয়মিতকরণ, পট্টাদার পাসবুক, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অনুমোদনসহ বিভিন্ন সরকারি কাজ করিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা শুরু করেন।
২০১৩ সালে তিনি নিজেকে ডেপুটি কালেক্টর ও আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বেকার যুবকদের সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। তাঁর বিরুদ্ধে তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, চাকরির নামে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ উপার্জনের পর রাধাকৃষ্ণ বৃহৎ আকারের জমি জালিয়াতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। তদন্তে জানা গেছে, গান্ডিপেট গ্রামের সার্ভে নম্বর ১৮-র সরকারি ‘পোরামবোক’ জমি নিয়ে দাবি করা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলে তিনি বিপুল অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, চালক প্রবীণ কুমারের মাধ্যমে রাধাকৃষ্ণের পরিচয় হয় কোভ্বুরু সুনীলের সঙ্গে। পরে তিনি নিম্মালা রাজেশ, নিম্মালা ভেনুগোপাল, নিম্মালা রামস্বামী, গারেলা মঙ্গা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
জমিটি যে সরকারি খাস জমি এবং এর ওপর কোনও বৈধ মালিকানা নেই, তা জেনেও তিনি ক্রেতা হিসেবে আগ্রহী প্রাক্তন বিধায়ক বোলা ব্রহ্মা নাইডু ও তাঁর ভাই রমেশকে আশ্বাস দেন যে জমিটির নিয়মিতকরণ ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।
পুলিশের অভিযোগ, রাধাকৃষ্ণ ও তাঁর সহযোগীরা ভুয়ো সরকারি আদেশ, জাল সিসিএলএ কার্যবিবরণী, ভুয়ো এনওসি, সরকারি চিঠি এবং অন্যান্য নথি তৈরি করে জমির ওপর বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রে বোলা ব্রহ্মা নাইডু, তাঁর ভাই রমেশ এবং জমি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের মধ্যে প্রায় ১২ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ রাধাকৃষ্ণ ও প্রবীণ কুমারের কাছ থেকে পাঁচটি ল্যাপটপ, ১২টি চেকবই, ১৩টি সিলমোহর, সাতটি ব্যাঙ্ক পাসবুক, ১০টি এটিএম কার্ড এবং বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত ৩১টি নথি উদ্ধার করেছে।
সাইবারাবাদের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সি.এইচ. শ্রীনিবাস জানিয়েছেন, পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, সম্পূর্ণ আর্থিক লেনদেনের তথ্য উদ্ঘাটন এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















