নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): সমাজসেবার জন্য বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা— ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে এই বার্তাই তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় তিনি কেরলের এক ব্যক্তির ব্যতিক্রমী সাঁতার প্রশিক্ষণ উদ্যোগের প্রশংসা করেন, যা হাজার হাজার মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।
রবিবার সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কেরলের আলুভা-র বাসিন্দা সাজি ভালাশেরিল-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালনা করছেন এবং ইতিমধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে সাঁতার শিখিয়েছেন। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদেরও তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ছুটির দিনে আমি এমন একটি ক্লাসের কথা বলব, যেখানে আপনারাও ভর্তি হতে চাইবেন। কল্পনা করুন, এমন একটি স্কুল যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ সবাই আসে, যেখানে কোনও ফি নেই, নেই বড় ভবন বা শ্রেণিকক্ষ। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, সেই ক্লাস বসে নদীর জলে।”
তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোনও কল্পকাহিনি নয়, বরং বাস্তব জীবনের এক অনন্য উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি কোনও গল্প নয়, এটি একটি বাস্তব প্রচেষ্টা। কেরলের আলুভায় সাজি ভালাশেরিল এমনই একটি সাঁতার ক্লাব পরিচালনা করেন। এখানে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ সাঁতার শিখেছেন। তিনি দিব্যাং শিশুদেরও সাঁতার শিখিয়েছেন। তবে এই উদ্যোগের পেছনে একটি বেদনাদায়ক স্মৃতিও রয়েছে।”
এরপর তিনি সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যা সাজি ভালাশেরিলকে এই উদ্যোগ শুরু করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কয়েক বছর আগে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় একাধিক ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনা সাজিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
মোদী বলেন, “তিনি ভাবতে শুরু করেন, যদি ওই শিশুরা সাঁতার জানত, তাহলে হয়তো অনেকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। সেই ভাবনা থেকেই তাঁর এই অভিযানের সূচনা।”
সাজি ভালাশেরিলের উদ্যোগকে সমাজের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাঁর জীবন আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়। সমাজসেবার জন্য বিশাল সম্পদের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন একটি ভালো উদ্দেশ্য এবং অবিচল প্রচেষ্টা। শুধু এই দুই শক্তির ওপর ভর করেই হাজার হাজার মানুষের জীবন পরিবর্তন করা সম্ভব।”
প্রধানমন্ত্রীর মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটলে সাধারণ মানুষও সমাজে অসাধারণ পরিবর্তন আনতে পারেন। সাজি ভালাশেরিলের এই উদ্যোগ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।



















