নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর সর্বশেষ পর্বে ভারতের দুই তরুণ স্প্রিন্টার গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুর-এর অসাধারণ কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়া মহলে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে এই ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ড তিনবার ভাঙা হয়েছে, যা ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের জন্য এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
মোদী বলেন, “বন্ধুগণ, সারা দেশে যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম ১০০ মিটার দৌড়। মাত্র দু’দিনের মধ্যে পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ের জাতীয় রেকর্ড তিনবার ভেঙেছে। এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছেন গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুর।”
দুই অ্যাথলিটের পারস্পরিক প্রতিযোগিতাকে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ‘যুগলবন্দি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আমরা সঙ্গীতের জগতে যুগলবন্দি দেখেছি। কিন্তু এই যুগলবন্দি একেবারেই আলাদা। একজন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, অন্যজন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে, তারপর প্রথমজন আবার নতুন উচ্চতা ছুঁতে চেষ্টা করছে। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ সত্যিই অত্যন্ত আকর্ষণীয়।”
প্রধানমন্ত্রী দুই ক্রীড়াবিদের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং সাফল্যের প্রশংসা করে দেশবাসীকে তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও কৃতিত্ব থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমি চাই ‘মন কি বাত’-এর শ্রোতারা আপনাদের সম্পর্কে জানুক, আপনাদের যাত্রাপথ সম্পর্কে অবগত হোক এবং আপনারা যে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুক।”
গুরিন্দরবীর সিং ও অনিমেষ কুজুরের এই রেকর্ডভাঙা পারফরম্যান্স ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে জাতীয় রেকর্ডের বারবার পরিবর্তন শুধু দেশের স্প্রিন্টিং মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়নি, বরং সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং উৎকর্ষ অর্জনের অদম্য মানসিকতারও প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভারতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
‘মন কি বাত’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই দুই তরুণ ক্রীড়াবিদের নাম উল্লেখ করায় দেশের ক্রীড়া মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বড় ধরনের উৎসাহ ও স্বীকৃতি।
সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু মানুষ তরুণদের স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং সাফল্যের গল্পকে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গুরিন্দরবীর সিং এবং অনিমেষ কুজুর ভবিষ্যতেও নিজেদের সীমা অতিক্রম করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে, আর তাঁদের পরবর্তী পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে গোটা দেশের।



















