দেরাদুন, ২৪ মে (আইএএনএস): দেরাদুনে সংঘবদ্ধ জমি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কংগ্রেস কাউন্সিলর অমিত ভান্ডারি ওরফে দীপুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অমিত ভাণ্ডারি ও তাঁর সহযোগীরা জাল এবং ভুয়ো নথি ব্যবহার করে জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিলেন।
এর আগে শুক্রবার একই মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রতারক প্রদীপ সাকলানি এবং তাঁর সহযোগী অজয় সজওয়ান-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে শনিবার অমিত ভাণ্ডারিকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতারণা ও জালিয়াতি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় প্রদীপ সাকলানির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ২৭টি এফআইআর নথিভুক্ত রয়েছে।
শহরের পুলিশ সুপার প্রমোদ কুমার জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রদীপ সাকলানি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। এরপর বিশেষ তদন্তকারী দল সন্দেহভাজনদের জেরা আরও জোরদার করে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী এক বৃদ্ধার দেরাদুনের জমির মালিকানার নথি জাল করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধার দুই ছেলের ভুয়ো মৃত্যু সনদও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ, যাতে জমির মালিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের নামে দেখানো যায়।
পুলিশের অভিযোগ, জাল নথির সাহায্যে একই জমি তিনজন আলাদা ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয় এবং বহু মানুষ প্রতারণার শিকার হন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় অমিত ভাণ্ডারির সরাসরি জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ সামনে আসার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া আরও কয়েকজনকে আপাতত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। যদিও তদন্তে প্রয়োজনে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারণা চক্রের আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেতে মূল অভিযুক্ত প্রদীপ সাকলানির পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।



















