আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্রমশ সংকুচিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃষক, কৃষিশ্রমিক, যুবসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ ক্রমবর্ধমান সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আজ আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে সর্বভারতীয় কৃষক সভার তিনদিনের রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, জনসভায় মানুষ যাতে অংশ নিতে না পারেন, তার জন্য বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও যানবাহন আটকে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব বাধা সত্ত্বেও জনসভায় যোগ দেওয়া কৃষক, জুমিয়া চাষি, কৃষিশ্রমিক, মহিলা এবং সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতির’ মধ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই সময়ে রাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, ত্রিপুরায় গণতন্ত্রকে লুণ্ঠন করা হচ্ছে এবং সংবিধানকে অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি সরকার ত্রিপুরাকে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির ‘ল্যাবরেটরি’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক-এর মৃত্যুর প্রসঙ্গও জনসভায় তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকই যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিজেদের নিরাপদ মনে করবেন? এই ঘটনায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানান তিনি।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের উল্লেখ করা পরিসংখ্যান তুলে ধরে জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন, প্রায় ২২ হাজার নিয়মিত নিয়োগের পাশাপাশি আরও প্রায় ২৬ হাজার পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “প্রশাসনে যদি ৪৮ হাজার নতুন কর্মী যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে স্কুল, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সরকারি দফতরগুলি এখনও কেন কর্মীশূন্য?
আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহল কমিশনের মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। আরডি এবং কৃষি-সহ বিভিন্ন দফতরের পরিস্থিতিকে তিনি ‘মাফিয়া রাজ’ ও ‘কমিশন রাজ’ বলে আখ্যা দেন।
রাজ্যের সড়ক যোগাযোগের বেহাল দশা নিয়েও সরব হন জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিশেষ করে আগরতলা থেকে তেলিয়ামুড়া হয়ে ধর্মনগর এবং খোয়াই, কমলপুর ও কৈলাশহর হয়ে ধর্মনগরের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাগুলির অবস্থা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
শেষে কৃষক, শ্রমিক, যুবসমাজ এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা।























